নিয়োগ দুর্নীতিতে ‘অভিষেকই মাস্টারমাইন্ড’! সব জানতেন মমতা? বিস্ফোরক তাপস মণ্ডল

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার রদবদল হতেই তৃণমূল কংগ্রেসের একের পর এক কেচ্ছা কাহিনী উঠে আসছে শিরোনামে। আর এবার রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি (West Bengal Recruitment Scam Case) নিয়ে সবচেয়ে বড় খবর প্রকাশ্যে এল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) নিয়োগ দুর্নীতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন মিডলম্যান তাপস মণ্ডল। তাঁর স্পষ্ট দাবি কুন্তল ঘোষ টাকা কালীঘাটের কাকু অর্থাৎ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কাছে দেওয়ার পরই সেই টাকা নাকি যেত অভিষেকের কাছে, আর এই সবটাই নাকি জানতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় উঠে এল বড় খবর

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নিয়োগ-দুর্নীতির মামলায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তাপস মণ্ডল গ্রেফতার হয়েছিলেন CBI-এর হাতে। এরপরই একের পর এক নাম প্রকাশ্যে আসতে থাকে। তাঁর মুখেই সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকুর নাম শোনা গিয়েছিল এমনকি কুন্তল ঘোষের নামও শোনা গিয়েছিল। এবার তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মিডলম্যান তাপস। তাঁর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না শুনলে কেউ টাকা দিত না। তাঁর নাম শুনেই তো টাকা দেওয়া হয়েছে। আর সবটাই নাকি জানতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কী বলছেন তাপস মণ্ডল?

গত কয়েকবছর ধরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে একাধিক নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছিল। এর জন্য প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। যদিও বর্তমানে তাঁরা জামিনে মুক্তিও পান। কিন্তু প্রশ্ন উঠছিল, রাজ্যের বুকে এতবড় দুর্নীতির হদিশ কেন পাননি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? কিন্তু এবার রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হতেই আগুনে ঘি ঢাললেন সেই মিডলম্যান তাপস মণ্ডল। তাঁর কথায়, “আমি মোট নগদে ১৯ কোটির বেশি টাকা দিয়েছি। একটি ডায়েরিতে সব হিসেব লিখে রাখতাম। টাকা না দিলে ভেরিফিকেশন আটকে দেওয়া হত। কালীঘাটের কাকু বলতেন, ‘সাহেব’ টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। আমি কুন্তলের হাতে টাকা পাঠাতাম। ও পৌঁছে দিত সুজয়কৃষ্ণের কাছে।”

আরও পড়ুন: বৈভব সূর্যবংশীর ভয়ে কাঁপছে ইংল্যান্ড! থামাতে প্ল্যান বানালেন ব্রিটিশ অধিনায়ক

অভিষেকই হলেন নিয়োগ দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড!

সাহেবের কাছে টাকা পাঠানোর প্রসঙ্গ উঠতেই সকলের প্রশ্ন কী এই সাহেব? তাহলে কি সেই নিয়োগ দুর্নীতি ঘটনার মূল মাথা? অবশেষে সেই সাহেবের কথা বললেন তাপস। তিনি জানান, “এই সাহেব আদতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই এই দুর্নীতির মাস্টার মাইন্ড। অভিষেকের নির্দেশ ছাড়া এত বড় দুর্নীতি হতে পারে? আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সবটা জানতেন।” এমনকি তিনি এই নিয়োগ দুর্নীতি ঘটনায় অভিষেকের গ্রেপ্তারির দাবিও করেন। তাপসের আরও অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি সত্যি সত্যিই সায়নী ঘোষকে ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই আবাসনের ঠিকানা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

Leave a Comment