সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ছিল দিল্লির যন্তরমন্তর। যুবক-যুবতীদের আন্দোলনে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সকে। তবে পুলিশের উপর হামলা থেকে শুরু করে সাংবাদিকদের উপরেও করা হয় হামলা। এমনকি সংসদ অভিযানের দিন কার্যত রক্তারক্তি অবস্থা হয় রাজধানীতে। কিন্তু সেখানেই RAF এর বিরুদ্ধে পেলেট গান চালানোর অভিযোগে উত্তাল দেশের রাজনীতি। এমনকি এ নিয়ে সুর চড়িয়েছেন বিরোধীরা। তবে সেই বিতর্কের মধ্যে বাহিনীর সদস্যদের পাশে দাঁড়ালেন সিআরপিএফ-র ডিরেক্টর জেনারেল জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং (Gyanendra Partap Singh)।
জওয়ানদের পাশে ডিরেক্টর জেনারেল
আসলে ‘সংসদ চলো’ অভিযানের দিন অর্থাৎ ২০ জুলাই পুলিশের সঙ্গেই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীদের একাংশ। এমনকি পুলিশের উপরেই করা হয় হামলা। সেই মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং আরএএফ জওয়ানদের। সেখানেই আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পেলেট গান চালানোর অভিযোগ ওঠে। কিন্তু এ নিয়ে জওয়ানদের পাশে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন সিআরপিএফের ডিরেক্টর জেনারেল জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে এদিন তিনি জানান, “অপারেশনাল ব্যাটালিয়ন হোক কিংবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে দেখা ইউনিট, কর্তব্য পালন করার সময় প্রতিটি সিদ্ধান্তের দায়ভার গ্রহণ করব আমি। কোনওরকম দ্বিধা বা ভয় না রেখে আপনারা দায়িত্ব চালিয়ে যান। যদি জবাবদিহিতার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে সেই দায়িত্ব ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে আমিই নেব।” তাঁর কথা থেকে স্পষ্ট, ডিউটিতে থাকাকালীন সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তার দায়ভার গ্রহণ করবেন তিনি নিজে এবং জবাবদিহিতাও দেবেন। এক কথায়, বাহিনীকে ফ্রি হ্যান্ড করে দিলেন তিনি।
‘WORK FEARLESSLY, I WILL TAKE RESPONSIBILITY’ – CRPF CHIEF AMID JANTAR MANTAR PELLET ROW !!!
CRPF Director General Gyanendra Pratap Singh has assured personnel that he will take responsibility for all decisions and actions taken in the line of duty.
Addressing the CRPF… pic.twitter.com/50gFnVr4zJ
— Ravi Prakash Official (@raviprakash_rtv) July 30, 2026
আরও পড়ুন: হেল্পলাইন চালুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নে ২০০০ অভিযোগ, রয়েছে অন্নপূর্ণা সংক্রান্ত দাবিও
তবে এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখা ভালো, আরএএফ হল কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআরপিএফ-র একটি বিশেষ ইউনিট। কোনও জায়গায় দাঙ্গা লাগলে, কিংবা জনতা উত্তেজিত হলে বা অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেখানে তারা হস্তক্ষেপ করেন, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এমনকি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে রেখেই তারা এই দায়িত্ব সামলান। সবথেকে বড় ব্যাপার, সন্ত্রাসবাদ কিংবা মাওবাদী দমন অভিযানেও তাদের জুড়িমেলা ভার। আর এবার তাদের হয়েই গুরুদায়িত্ব নিলেন স্বয়ং সিআরপিএফ প্রধান।