নীল নদী আর তুষারঢাকা পাহাড়ের মাঝে রয়েছে এক টুকরো স্বর্গ, ঘুরে আসুন ‘জান্সকার’

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে ফুল। আর এই ফুলের উস্কানিতে সময়, সুযোগ থাকলেই ভ্রমণপিপাসু ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। কেউ যান অফবিট জায়গায় তো কেউ যান সেই আবার চেনা পরিচিত জায়গায়। তবে আজ আপনাদের আমরা এমন এক জায়গার সন্ধান দেব যাকে সুপার অফবিট আখ্যা দিলেও ভুল হবে না। আর এই জায়গাটি কমবেশি সকলের স্বপ্নের জায়গা লাদাখে অবস্থিত। এমন এক জায়গা যাকে নিয়ে আজ অবধি মানুষ খুব একটা আলোচনা করেননি, জায়গাটি প্রচারের আলো থেকে কয়েক ক্রোশ দূরে থাকায় এখনও অবধি এখানে তেমন পর্যটকদের পা পড়েনি। নিশ্চয়ই ভাবছেন কোন জায়গা নিয়ে কথা হচ্ছে, তাহলে জানিয়ে রাখি, আজ কথা হচ্ছে ‘জান্সকার’ (Zanskar) নিয়ে।

ঘুরে আসুন লাদাখের অফবিট ‘জান্সকার’-এ

জান্সকার লাদাখের একটি সুন্দর জায়গা, যেখানে নীল ঝলমল করা জল এবং তুষারাচ্ছাদিত পর্বত রয়েছে। এটি খুব বেশি পরিচিত নয়, জায়গাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২,০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এখানে আপনি অনেক রোমাঞ্চকর কাজ করতে পারেন, যেমন ঘোড়া চালানো, ট্রেকিং, প্যারাগ্লাইডিং এবং রিভার রাফটিং। জাঁন্সকারের বেশিরভাগ মানুষ তিব্বতি বৌদ্ধ এবং তারা বিভিন্ন ভাষা বলেন, যারমধ্যে রয়েছে স্থানীয় জান্সকারি, হিন্দি, লাদাখি এবং উর্দু ভাষা। এখানে শীতে তাপমাত্রা প্রায় -৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, কিন্তু গরমে দিনে আবহাওয়া মনোরম থাকে।

জানস্কার ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে। অর্থাৎ বর্ষার শুরুতে এই জায়গায় অনায়াসেই ঘুরে আসতে পারেন আপনি। জান্সকারের ল্যান্ডস্কেপ আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দেবে। এই জায়গাটার সৌন্দর্য এতটাই বেশি যে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। সিন্ধু ও জানস্কার নদীর সঙ্গম – গান্ধী ঘাট দেখতে ভুলবেন না। এখানে দেখার মতো এক দুর্দান্ত জায়গা আছে, আর সেটা হল মুনে গোম্পা। কয়েকশো বছর আগে নির্মিত এই মঠটি মূলত ধ্যান ও আধ্যাত্মিক চর্চার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। লাদাখের জান্সকার উপত্যকায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক তিব্বতি বৌদ্ধ মঠ বা বিহার হলো মুনে গোম্পা (Mune Monastery) মুদ্রা ও প্রাচীন সংস্কৃতির জন্য পরিচিত এই মঠটি প্রায় ৩৫০০ মিটারেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত এবং এটি বৌদ্ধধর্মের গ্যালুগপা (Gelugpa) সম্প্রদায়ের অন্তর্গত।

আরও পড়ুনঃ নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের জেরে দক্ষিণবঙ্গের ২ জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, আজকের আবহাওয়া

বর্তমানে এই গোম্পায় প্রায় ২০ জন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী বা লামা বসবাস করেন এবং তাঁদের দৈনন্দিন প্রার্থনা ও আচার-অনুষ্ঠান এখানে নিয়মিতভাবে পালিত হয়। মঠটি দুর্গম কিন্তু মনোরম পাহাড় এবং নদীর অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে অবস্থিত। এখানে গেলে আপনার চোখ কপালে উঠলেও উঠতে পারে। এছাড়া এখানে রয়েছে ড্রাং-ড্রুং হিমবাহ যা লাদাখের অন্যতম বৃহৎ হিমবাহ। কারগিল যাওয়ার পথেই এই জায়গাটি পড়বে।

কীভাবে যাবেন?

জান্সকার আপনি দুইভাবে যেতে পারেন। এক বিমানে কলকাতা থেকে শ্রীনগর। তারপর সেখানে একদিন ডাল লেক ঘুরে পরের দিন গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন জান্সকারের উদ্দেশ্যে। এছাড়া আপনি কলকাতা থেকে ট্রেনে করে চণ্ডীগড় কিংবা জম্মু তাওয়াই পৌঁছে যান। এরপর সেখান থেকে শ্রীনগর একদিন ঘুরে পরের দিন বেরিয়ে পড়ুন জান্সকারের উদ্দেশ্যে।

Leave a Comment