প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই এবার নৈহাটির (Naihati) বড়মার মন্দিরে (Boroma Temple) তৈরি হল নতুন পরিচালন কমিটি। কিন্তু এবার সেই নতুন কমিটিতেই ঠাঁই পেলেই পুরোনো কমিটির তিন অভিযুক্ত। আর তাই নিয়ে শুরু হল সমস্যা। রাজ্যে পালাবদল হতেই মন্দির পরিচালনা কমিটির (New Committee) আর্থিক স্বচ্ছতা ও কাজকর্ম নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছিল। আর তাই ভেঙে দেওয়া হয়েছিল নৈহাটির শতাব্দী প্রাচীন বড়মা মন্দিরের পরিচালন কমিটি। মাস দুয়েক পর অবশেষে গঠিত হল নতুন কমিটি। তৈরি হল ২১ সদস্যের পরিচালনা কমিটি ও ৮ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি।
বড়মার মন্দির নতুন পরিচালন কমিটি
জানা গিয়েছে, পুরনো কমিটির থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের মাত্র তিন সদস্যকে রেখে গতকাল, বৃহস্পতিবার ২১ সদস্যের নতুন পরিচালন কমিটি ও ৮ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে নৈহাটির বড়মা কালীমন্দিরে। এবার এই নতুন কমিটির সভাপতি হয়েছেন বারাকপুর মহকুমার বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ এইচ এস পাঠক। সহ-সভাপতি হয়েছেন মদন বিশ্বাস। যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে তাপস ভট্টাচার্য ও কমলকৃষ্ণ ঘোষকে। এই তাপস ভট্টাচার্য আগের পুরোনো কমিটির সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও আগের কমিটি থেকে রাখা হয়েছে অয়ন সাহা ও অরিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
পুরোনোদের নেওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা
এই রদবদল ঘিরে মন্দিরের একাংশ ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সুর শোনা গিয়েছে। তাঁদের একাংশের প্রশ্ন কেন পুরোনো কমিটির অভিযুক্তদের নতুন কমিটিতে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন তুলেছিলেন বিজেপির বেশ কয়েকজন কর্মী সমর্থকরা। এই প্রসঙ্গে বিজেপির বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক রূপক মিত্র বলেন, ‘‘বড়মা মন্দির পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে এই কমিটি তৈরি হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে মন্দির পরিচালনা করা।” তিনি ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন এবং নতুন উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন শর্মিষ্ঠা দে।
আরও পড়ুন: হাসপাতালে ভর্তি মিঠুন চক্রবর্তী, দেখা করতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী, কী হয়েছে মহাগুরুর?
প্রসঙ্গত, নতুন কমিটিতে জায়গা পাননি আগের সভাপতি তথা নৈহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে। বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় জানান, নতুন কমিটি আগের পরিচালন পর্ষদের সমস্ত আর্থিক লেনদেন ও কাজকর্মের অডিট করবে। সেখানে আগের কমিটির সময়ে আয়-ব্যয়ের হিসেব, কী কাজ হয়েছে, সবই জানা যাবে। অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে পুরোনো কমিটির তিন সদস্যকে রাখা নিয়ে তিনি জানান, “কালীপুজোর আর বেশি দেরি নেই। নতুন সদস্যরা এখনও মন্দিরের সমস্ত রীতি, আচার ও পরম্পরা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত নন। তাই তিন সদস্যকে রেখে অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”