পশ্চিমবঙ্গের কিছু অঞ্চলে ১৫ আগস্ট পালিত হয় না স্বাধীনতা দিবস! কারণ জানেন?

অনন্যা সরকার, কলকাতা: আজ ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস (Independence Day)। এই বিশেষ দিন উদযাপনে মেতে উঠেছে পুরো দেশ। গোটা ভারত সেজে উঠেছে তিরঙ্গার রঙে। দিকে দিকে চলছে পতাকা উত্তোলন, আট থেকে আশি যোগ দিয়েছে স্বাধীনতার দিবসের অনুষ্ঠানে। কিন্তু জানেন কি গর্বের এই দিনে যখন সকল ভারতবাসী আনন্দে শামিল হচ্ছেন, তখন খোদ পশ্চিমবঙ্গেরই কিছু এলাকায় ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালিত হচ্ছে না। ওই নির্দিষ্ট জায়গাগুলিতে স্বাধীনতা দিবসের পতাকা উত্তোলন করা হবে ১৮ আগস্ট। কিন্তু কেন এই দেশেরই কিছু জায়গায় ভিন্ন দিন পালন হচ্ছে স্বাধীনতা দিবস? চলুন জেনে নিই আসল কারণটা। 

নদিয়া ও মালদহের কিছু অংশে ১৮ আগস্ট পালিত হয় স্বাধীনতা দিবস

ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসের সাথে যেমন জড়িয়ে রয়েছে গর্ব, দীর্ঘ ২০০ বছরের ইংরেজ শাসন অবসান করার আনন্দ ও দেশপ্রেমের আবেগ, তেমনই এই স্বাধীনতা দেশভাগের বেদনায় সিক্ত। এরফলে, নদিয়া ও মালদহ জেলার কিছু অংশে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয় প্রতিবছর ১৮ আগস্ট। কারণ, ওই অঞ্চলগুলিতে প্রকৃত স্বাধীনতা এসেছিল ১৯৪৭ সালের ১৮ আগস্ট। যদিও ১৯৪৭-এর ১৫ আগস্ট সারা ভারত স্বাধীনতা পায়, তবে মালদহ ও নদিয়ার কিছু অংশ তখনও পূর্ব পাকিস্তানের অধীনে ছিল।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতা দিবসেও দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, কোন কোন জেলা? আজকের আবহাওয়া

১৯৪৭ সালে ভারতের এই বিস্তৃর্ণ অঞ্চল ব্রিটিশ শাসন থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি হয় দেশভাগও। গঠিত হয় দুই পৃথক রাষ্ট্র – ভারত ও পাকিস্তান। ব্রিটিশ আইনজীবী সিরিল র‍্যাডক্লিফের নেতৃত্বে থাকা বাউন্ডারি কমিশনকে এই দুই দেশের মধ্যবর্তী সীমানা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৫ আগস্ট যখন এল তখনও চলছে  সীমানা নির্ধারণের কাজ। ফলে নদীয়া ও মালদহ জেলার কিছু অংশ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সীমানার মধ্যেই থেকে যায়। তবে এই অঞ্চলগুলোতে হিন্দুরাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে সেই অঞ্চলগুলির স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তাদের জাতীয় পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। 

সেই সময়।এই অঞ্চলগুলির বাসিন্দারা প্রস্তাবিত ‘র‍্যাডক্লিফ লাইন’ (Radcliffe Line)-এর বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন। নদীয়ার প্রভাবশালী পরিবারগুলি ও রাজনৈতিক নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, তারা পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়ে থাকতে রাজি নন, তারা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হতে চান। ফলে আবারও নতুন করে ওই অঞ্চলের সীমানা নির্ধারণ করা হয়। তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনের নির্দেশে সীমানা সংক্রান্ত এই সমস্যা মেটানোর লক্ষ্যে র‍্যাডক্লিফ ১৯৪৭ সালের ১৭ আগস্ট চূড়ান্ত করেন সংশোধিত সীমানা। 

আরও পড়ুন: জলপথে জুড়ল হুগলি-উত্তর ২৪ পরগনা, চুঁচুড়া থেকে শুরু ফেরি পরিষেবা

১৭ আগস্ট পর্যন্ত ওই অঞ্চলগুলিতে উড়ছিল পাকিস্তানের পতাকা, অবশেষে ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে ভারতের তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করা হয়। তাই পশ্চিমবঙ্গের ওই দুই জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকার মানুষের কাছে ১৮ আগস্টই হল স্বাধীনতা দিবস। দেশভাগ পরবর্তী অনিশ্চয়তা ও প্রতিবাদের স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে এই দিনটির সাথে। ১৯৯১ সাল থেকে এই অঞ্চলের বাসিন্দারা ১৮ আগস্টকে নিজেদের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উদযাপন করা শুরু করেন।

Leave a Comment