অনন্যা সরকার, দার্জিলিং: উত্তরবঙ্গের বিস্তৃত ঘন জঙ্গলে জানা-অজানা নানা পশুপাখির দেখা মেলে। এর মধ্যে কিছু বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীও রয়েছে। সম্প্রতি দার্জিলিংয়ের রিচমন্ড হিলের কাছে ঘন জঙ্গলে একটি বিরল মেলানিস্টিক বা কুচকুচে কালো শিয়াল (Darjeeling Melanistic Jackal) দেখা গেছে। বন দফতর জানিয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের শিয়াল দেখার ঘটনা এটাই প্রথম। যদিও এর আগে আসাম ও কেরালায় কালো শিয়াল দেখা গেছে, তবে পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলে এদের উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল। পাহাড়ি ঘন জঙ্গলে এমন এক জোড়া মেলানিস্টিক শিয়ালের দেখা পাওয়াকে বন আধিকারিকরা বাস্তুতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে বন দফতরের বসানো ট্র্যাপ ক্যামেরায় এই বিরল শিয়ালের ছবিটি ধরা পড়ে।
কালো শিয়ালের দেখা মিলল উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে
পশ্চিমবঙ্গের বন বিভাগ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। পাহাড়ি ঘন জঙ্গলে এই বিরল শিয়ালটি নজরে আসার পর, এদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানোর জন্য দপ্তরের উদ্যোগে আরও কয়েকটি স্থানে অতিরিক্ত ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, গত মাসের শেষের দিকে ট্র্যাপ ক্যামেরায় কুচকুচে কালো এক জোড়া শিয়ালের ছবি ধরা পড়ে।
ওই কর্মকর্তার দাবি, এই বিরল প্রজাতির শিয়ালের দেখা পাওয়া একটি সুস্থ বাস্তুতন্ত্রের লক্ষণ। ইতিমধ্যেই গবেষকদের দলকে এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য নথিবদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে বন দফতর। এই দুই শিয়ালের মেলানিজমের পেছনে সংকরায়ণ বা মিউটেশন কারণ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। বন কর্মীরা মনে করছেন, পাহাড়ি অঞ্চলের সুস্থ বাস্তুতন্ত্রের ফলেই বিরল প্রাণী দুটির দেখা মিলছে।
আরও পড়ুন: বহরমপুরে হোস্টেলের খাবার খেয়ে অসুস্থ ৪৪ ছাত্রী, মাদক মেশানোর অভিযোগে আটক রাঁধুনি
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে অতিরিক্ত মেলানিনের কারণে শেয়াল দুটি সম্পূর্ণ কালো রয়েছে দেখাচ্ছে। গত আগস্টে পাহাড়ে একটি মেলানিস্টিক চিতাবাঘ (Melanistic Leopard) দেখতে পাওয়া গিয়েছিল, যা বন্যপ্রাণপ্রেমী ও ফটোগ্রাফারদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি করে। বন দফতর বন্যপ্রাণীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও সুরক্ষার জন্য জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় ক্যামেরা স্থাপন করেছে। এক বন দফতরের আধিকারিক জানিয়েছেন যে, উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে আরও মেলানিস্টিক শেয়াল আছে কিনা, তা এখন খোঁজ করে দেখা হচ্ছে। বন বিভাগ ঘোষণা করেছে যে, বর্তমানে পাহাড়ের বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রেখে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।