পিছোতে পারে স্কুলের সময়, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছে গেল আবেদন

Primary Schools

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গত এক সপ্তাহ ধরে রাজ্যে কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। উত্তুরে ঠাণ্ডা হাওয়ার দাপটে বাড়ি থেকে বেরোনো খুবই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাইমারি স্কুলে (Primary Schools) যেতে রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ছোট ছোট পড়ুয়াদের। স্বাভাবিকভাবেই অনুপস্থিতির সংখ্যা বাড়ছে। অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়ছে। কারণ, তাদের সকালে স্কুলে যেতে হয়। তার জন্য বাড়ি থেকে ভোরবেলা বেরোতে হয়। এই পরিস্থিতিতে প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে ১ ঘণ্টা সময় পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন পাঠাল পর্ষদ।

সময় পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে

১০-১১ ডিগ্রির ঘর থেকে কিছুতেই যেন সরছে না পারদ, প্রবল ঠান্ডায় কাঁপছে বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছে প্রাথমিক স্কুল পড়ুয়ারা। যেহেতু রাজ্যে বেশির ভাগ প্রাথমিক স্কুল শুরু হয় সকাল সাড়ে ৬টায়। তার জন্য বাড়ি থেকে ভোরবেলা বেরোতে হয়। অন্যান্য জেলার প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলিতে প্রবল ঠান্ডায় সকাল সাড়ে ৬টায় বেশির ভাগ পড়ুয়াদের কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তার উপর রয়েছে ঘন কুয়াশার দাপট। সকালের দিকে দৃশ্যমানতা কম থাকে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকছে, তাই এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক স্কুলগুলির সময় এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে আবেদন করলেন প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের একাংশ।

আরও পড়ুনঃ মুস্তাফিজুরের বদলা নিল বাংলাদেশ, এবার এই ভারতীয়কে BPL থেকে বাদ দিল BCB

কী বলছেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি?

বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হান্ডা বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার এই ঠান্ডায় কমে গিয়েছে। প্রবল ঠান্ডা তো আছে। তার উপরে সকালে এত কুয়াশা যে অভিভাবকরা দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। তাই সেক্ষেত্রে এক ঘণ্টা দেরিতে স্কুল শুরু হলে খুব সুবিধা হবে। ছুটিও সাধারণ সময়ের এক ঘণ্টা পরে হবে। আমরা তাই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে চিঠি লিখে এই ব্যাপারে অনুমতি চেয়েছি।” এই বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল বলেছেন, “এই পরিস্থিতিতে সময় এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হবে কি না, সেই ব্যাপারে স্কুলগুলিকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলি তাদের এলাকার ঠান্ডা বুঝে স্কুল শুরুর সময় বদলাতে পারে।”

আরও পড়ুন: মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড দেওয়ার দিনক্ষণ ঘোষণা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের

প্রাথমিক স্কুলের ক্লাস শুরুর সময়সীমা পিছানো নিয়ে সকলের মত থাকলেও সমস্যায় পড়তে পারে প্রাথমিক স্কুলের সঙ্গে থাকা মাধ্যমিক স্কুলগুলি। কারণ সেখানে প্রাথমিক স্কুল শেষ হলেই সেখানে মাধ্যমিক স্কুল শুরু হয়। তবে শিক্ষকদের অনেকে বলছেন, যত দিন প্রবল ঠান্ডা থাকবে তত দিন প্রাথমিকে ক্লাসের সময় ১০ মিনিট করে কমিয়ে দিলেই সব ক্লাস হওয়া সম্ভব। অথবা একটা পিরিয়ড কম করা যেতে পারে। এদিকে পর্ষদের অনুমতি আসার আগেই কয়েকটি স্কুল সকালে দেরিতে ক্লাস শুরু করেছে।

1 thought on “পিছোতে পারে স্কুলের সময়, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছে গেল আবেদন”

Leave a Reply to 123winclub Cancel reply