পুজোর আগে বড় সুখবর, ব্যাপক সস্তা হবে পেঁয়াজ-চিনি! বিশেষ বার্তা দিলীপ ঘোষের

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মধ্য এবং নিম্নবিত্তদের জন্য স্বস্তির খবর, পুজোর মুখে এবার দাম কমতে চলেছে পেঁয়াজ ও চিনির। বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। জানা গিয়েছে, বাজারে খুচরো পেঁয়াজের দাম (Onion Price West Bengal) কেজি প্রতি ৩৫ টাকার মধ্যে রাখার উদ্যোগ যেমন নেওয়া হয়েছে, ঠিক তেমনই চিনিও ৫০ বা তার কম দামে (Sugar Price West Bengal) বিক্রির ব্যবস্থা করারও চেষ্টা চলছে। এছাড়াও শিলিগুড়ির (Siliguri) ঐতিহ্যবাহী রেগুলেটেড মার্কেটের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

পুজোর আগেই দাম কমবে পেঁয়াজ চিনির

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার বাজার পরিদর্শন ও প্রশাসনিক বৈঠকের পর জিনিসপত্রের দাম নির্ধারণ নিয়ে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর ঘোষণা, “উৎসবের মরসুম অর্থাৎ পুজোর আগেই বাজারে ৩৫ টাকা কেজি দরে খুচরো পেঁয়াজ বিক্রির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নাসিক থেকে নাফেডের মাধ্যমে পেঁয়াজ এনে ইতিমধ্যেই কিছু বিক্রি করা হলেও এবার পুরো বাজার জুড়েই ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই দামে পেঁয়াজ মিলবে।” এছাড়াও চলতি মাসের মধ্যেই চিনি প্রতি কেজি ৫০ টাকা বা তার কম দামে বিক্রির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বাজারের নিকাশি ব্যবস্থা নিয়েও বিশেষ উদ্যোগ

শিলিগুড়ির এই ঐতিহ্যবাহী বাজারে আয়োজিত বৈঠকে এদিন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কৃষি বিপণন দপ্তরের সচিব অভিনব চন্দ্র, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশঙ্কর পানিক্কর, মহকুমাশাসক তথা রেগুলেটেড মার্কেটের সচিব বিকাশ রুহেলা এবং স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ীরা। শুধু সবজির দাম বৃদ্ধি নয়, বাজারের নিকাশি ব্যবস্থা নিয়েও উঠছে একাধিক অভিযোগ। নালার মুখ প্রায় সময়ই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমছে বাজারে। আর সেই জল পেরিয়ে কাজ করতে অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের। এবার সেই নিয়েও সরব হয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন: উপনির্বাচনের আগে বাংলায় বড় জয় বিজেপির, হুগলীতে ‘শূন্য’ বিরোধীরা

কী বলছেন দিলীপ ঘোষ?

মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, “রাজ্যে ৫০টি বাজারের সংস্কারের কাজ করা হবে। তার মধ্যে শিলিগুড়ির রেগুলেটেড মার্কেটও থাকবে। বাজারের সমস্ত অভ্যন্তরীণ নর্দমা সংস্কার এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে নিকাশি ব্যবস্থা সচল করা হবে। এছাড়া রবিবারে রাস্তায় বসা সাধারণ চাষিদের বাজারের ভেতরে সুনির্দিষ্ট জায়গা করে দেওয়া, সোলার প্যানেল বসিয়ে আলো ও বিদ্যুতের সুব্যবস্থা করা এবং একটি পৃথক স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।” এখানেই শেষ নয়, বাজারে আসা পণ্যবাহী গাড়ি থেকে ফল বা অন্যান্য সামগ্রী চুরির অভিযোগের ক্ষেত্রেও প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দূর থেকে আসা ট্রাকচালক ও খালাসিদের বিশ্রামের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাজারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আসবে আমূল বদল

মঙ্গলবার শিলিগুড়ির এই ঐতিহ্যবাহী বাজারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। নতুন পরিকল্পনায় বাজারের ভেতরেই কাঁচা জৈব বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরির প্রসেসিং সেন্টার এবং অজৈব বর্জ্য যেমন থার্মোকল বা প্লাস্টিক প্রক্রিয়াকরণের আলাদা প্লান্ট গড়ে তোলা হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, পাহাড়ের কমলালেবু, আনারসের মতো পচনশীল ফল এবং দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি থেকে আসা পেঁয়াজ ও সবজি দুই-তিন মাস সুরক্ষিত রাখতে মাল্টিপারপাস কোল্ডস্টোরেজ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

Leave a Comment