প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র শিক্ষকের অনুপাতে সমতা আনতে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। শহরের প্রাইমারি স্কুলগুলি থেকে অতিরিক্ত শিক্ষকদের গ্রামে বদলির প্রক্রিয়া (Teacher Transfer) শুরু হতে চলেছে উত্তর দিনাজপুরে (Uttar Dinajpur)। গতকাল, রবিবার এমনই তথ্য জানান জেলা প্রাইমারি স্কুল সংসদের নতুন সভাপতি সুব্রত সরকার। এদিকে শিক্ষক বদলির এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষক সংগঠনে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।
অতিরিক্ত শিক্ষকদের বদলি গ্রামে
বিগত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, শহরের প্রাইমারি স্কুলগুলিতে পড়ুয়ার তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত। এদিকে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে গ্রামীণ স্কুলগুলিতে। সেখানে পড়ুয়াদের তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা কম, আর তাতেই পড়ুয়াদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিতে প্রশ্ন উঠছে। এমনই অবস্থা উত্তর দিনাজপুরে। তাই যাতে গ্রামীণ স্কুলগুলিতে শিক্ষকের ঘাটতি মেটে তার জন্য অতিরিক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গ্রামীণ স্কুলগুলিতে পাঠানো হচ্ছে। প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল রবিবার, জেলা প্রাইমারি স্কুল সংসদের নতুন সভাপতি সুব্রত সরকার জানিয়েছেন, বদলির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। পুজোর ছুটি শেষ হলে অতিরিক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গ্রামীণ স্কুলগুলিতে যোগদান করতে হবে।
১২ জন শিক্ষকের বদলির নির্দেশ
যেহেতু পুজোর ছুটিতে বন্ধ ছিল স্কুলগুলি, তাই ওই পরিস্থিতিতে কোনো রকমে চটজলদি অতিরিক্ত শিক্ষক শিক্ষিকাদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রথম ধাপে ১২ জন শিক্ষকের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যে সব স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা খুব কম রয়েছে বা শূন্য, সেই সার্কেলের এসআইদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন SOP তৈরি করা হয়। স্কুল খুলতেই সেটা কার্যকর হবে। জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ এবং ইসলামপুর শহরের একাধিক স্কুলে পড়ুয়াদের অনুপাতে শিক্ষক সংখ্যা বেশি। উত্তর দিনাজপুরের ন’টি ব্লকে ১৪০০-র বেশি প্রাইমারি স্কুলে বর্তমানে ৪৯০০ জনেরও বেশি শিক্ষক নিযুক্ত রয়েছেন। তাই সব দিক বিবেচনা করে শিক্ষক বদলি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মমতার বিরুদ্ধে নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ ঋতব্রতর! জোড়া ফুল প্রতীক কাণ্ডে নয়া মোড়
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার চলাকালীন গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলি থেকে শিক্ষকরা শহরের স্কুলে বদলি হয়ে আসতেন। এতে গ্রামীণ স্কুলগুলিতে শিক্ষক ঘাটতি দেখা দিত। কিন্তু এবার সেই ঘাটতি পূরণ করতে ময়দানে নেমেছে বিজেপি সরকার। সর্বস্তরের পড়ুয়ারা যাতে সঠিকভাবে শিক্ষা লাভ করে তার জন্য নেওয়া হবে বিশেষ ব্যবস্থা।