আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: হার্নিয়ার (Hernia) চিকিৎসা করতে গিয়েই সামনে এল অপ্রত্যাশিত শারীরিক বিন্যাস। পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বজবজের (Budge Budge) এক যুবকের অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর শরীরে জরায়ু (Uterus) ও ডিম্বনালির অস্তিত্ব খুঁজে পান চিকিৎসকেরা (Doctor)। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত চিকিৎসক মহল। যুবকের শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে ক্রোমোজ়োম পরীক্ষা করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।
অপারেশন থিয়েটারে ঠিক কী দেখতে পান চিকিৎসকরা?
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বজবজের ওই যুবকের শরীরে পুরুষের অণ্ডকোষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে অস্ত্রোপচারে পাওয়া অঙ্গগুলির উপর ভিত্তি করে ওই যুবকের শারীরিক গঠন সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। বিষয়টিকে আরও ভালোভাবে বুঝতে গেলে চিকিৎসাগত মূল্যায়ন ও একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ওই যুবকের শারীরিক গঠন, হরমোনের মাত্রা, ক্রোমোজ়োম এবং প্রজনন অঙ্গের অবস্থান সব দিক খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন বিরল অবস্থার নজির অবশ্য আগেও পাওয়া গিয়েছে। PMDS নামে পরিচিত একটি জন্মগত অবস্থায় বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য পুরুষের মতন হওয়া সত্ত্বেও শরীরের ভিতরে জরায়ু ও ডিম্বনালির মতো মুলেরিয়ান নালির উপস্থিতি থাকতে পারে। মায়ের গর্ভে থাকাকালীন ভ্রূণের বিকাশের সময় অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোনের উৎপাদন বা তার কার্যকারিতায় সমস্যা হলে এমনটা ঘটতে পারে। তবে বজবজের যুবকের ক্ষেত্রে ঠিক এমনই কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার ফল ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যাবে না।
আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাময়িকীতেও একই ধরনের বিরল ঘটনার বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৩ সালে প্রকাশিত একটি কেস রিপোর্টে ৩২ বছর বয়সি এক পুরুষের ইনগুইনাল হার্নিয়ার অস্ত্রোপচারের সময় শরীরে জরায়ুর টিস্যু পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। অন্য একটি গবেষণাপত্রে ৩৬ বছর বয়সি এক ব্যক্তির হার্নিয়ার মধ্যে জরায়ু ও ডিম্বনালির উপস্থিতি ধরা পড়ার বিবরণ রয়েছে। আরও একটি প্রকাশিত রিপোর্টে ৭০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির হার্নিয়ার অস্ত্রোপচারের সময় একই ধরনের অঙ্গের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
আরও পড়ুন: গণবিক্ষোভের মাঝেই রদবদল! নতুন ডেপুটি কমিশনার নিয়োগ করল ECI
এই ঘটনাগুলি থেকে বোঝা যায়, হার্নিয়ার অস্ত্রোপচারের সময় অপ্রত্যাশিত প্রজনন অঙ্গের সন্ধান পাওয়া চিকিৎসাবিজ্ঞানে একেবারে নজিরবিহীন নয়। তবে প্রতিটি রোগীর শারীরিক গঠন, উপসর্গ এবং পরীক্ষার ফল আলাদা হতে পারে। তাই অন্য কোনও রোগীর ক্ষেত্রে নির্ণয় করা সমস্যাকে বজবজের যুবকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে চিকিৎসকরা আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। সেই পরীক্ষার আসন্ন ফলাফলের দিকেই এখন নজর চিকিৎসামহলের।