বদ্ধ ঘরেই জাফরানের চাষ করে তাক লাগলেন ভাই-বোনের জুটি, মাসে আয় ১৮ লক্ষ

অনন্যা সরকার, লুধিয়ানা: কাশ্মীরের ৫০০ কিলোমিটার দূরে লুধিয়ানার এক গ্রামে গড়ে উঠেছে এমন এক ঘর যেখানে আবহাওয়া ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে নয়, পরিবর্তিত হয় যন্ত্রের সাহায্যে। এই ঘরে বরফ পড়ে না, হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বাতাস বয় না, তবে প্রতি বছর কাশ্মীরি কেশরের (Kashmiri Kesar) বেগুনি ফুলে ভরে যায়। লুধিয়ানার আস্তিকা নারুলা ও শঙ্কর নারুলা – এই ভাই-বোনের জুটি অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন (Success Story of Aastika Narula and Shankar Narula)। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের মধ্যে জাফরান চাষ করে এখন তাঁরা দুর্দান্ত মুনাফা অর্জন করছেন। আসুন তাঁদের এই সাফল্যের কাহিনীটি সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক। 

ঘরের মধ্যে জাফরানের চাষ

লুধিয়ানার ফুলওয়ালের বাসিন্দা আস্তিকা ও শঙ্কর গত দুই বছর ধরে জাফরান চাষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। ৫৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু হওয়া এই প্রজেক্ট থেকে এখন ভালো লাভ হচ্ছে। বছরে প্রায় ১৭-১৮ লক্ষ টাকা আয় হওয়ায় চলতি বছরের মধ্যেই তাঁদের বিনিয়োগের সমস্ত খরচ উঠে আসবে বলে আশা রাখছেন আস্তিকা ও শঙ্কর। বর্তমানে তাঁরা উৎপাদিত পণ্য বিদেশেও সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছেন।

নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়ায় জাফরান চাষের করতে গিয়ে আস্তিকা ও শঙ্করকে যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে, তারমধ্যে সবচেয়ে বড় ছিল বীজ থেকে চারা গজানো বা অঙ্কুরোদগম করা, কারণ কেশর মূলত ঠান্ডা আবহাওয়ার ফসল, এদিকে লুধিয়ানার জলবায়ু যথেষ্ট উষ্ণ। তবে সঠিক প্রশিক্ষণ তাঁদের এবিষয়ে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। জাফরান চাষ মূলত আগস্ট থেকে নভেম্বর – এই চারমাস ধরে করা হয়। বছরে একবারই এই ফসল তোলা যায় এবং প্রায় ছয় বছর ধরে এটিকে সংরক্ষণ করে রাখা যায়।

আরও পড়ুন: মাদ্রাসায় বন্দে মাতরম গাইতেই হবে? বিরাট নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

অনলাইনের পাশাপাশি আমরা ফোনেও প্রচুর অর্ডার পান লুধিয়ানার এই ভাই-বোনের জুটি। শুরুতে তাঁদের প্রোডাক্টের মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হলেও, পরে ধীরে ধীরে চাহিদা বাড়তে থাকে। বাজারে জাফরানের চাহিদা অনেকটাই, কিন্তু উৎপাদন কম হওয়ার ফলে এটি দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। বর্তমানে পণ্যের গুণমান আরও উন্নত করার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। 

শঙ্কর নারুলা জানান, তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে থাকায়, কাশ্মীর জাফরান চাষের আদর্শ স্থান। কিন্তু পাঞ্জাবের সমতল ভূমিতে এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত তাপমাত্রা প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। আগস্ট মাসে যখন বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তখন ঘরের ভেতরেই এই কেশরের চারা রোপণ করা হয়। এরপর এসি (AC) ব্যবহার করে তাপমাত্রা ২০ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখা হয়।

এছাড়াও শঙ্কর বলেন, এই ধরনের চাষাবাদে এলইডি (LED) বাল্বের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে, কারণ এগুলি জাফরান চাষের জন্য যে পরিমাণ ও যে রকমের আলোর প্রয়োজন, তা সরবরাহ করতে পারে। গোলাপি ও নীল আলোর ব্যবহারের ফলে জাফরানের রঙ গাঢ় হয়, যা এর চাহিদা ও দাম আরও বাড়িয়ে দেয়। জাফরান চাষের ক্ষেত্রে চারটি গুরুত্ত্বপূর্ণ দিকের কথা উল্লেখ করেছেন শঙ্কর। এগুলি হল – তাপমাত্রা, আলোর বিন্যাস, আর্দ্রতা এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য এসি এবং প্রয়োজনীয় জল সেচের ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা। এছাড়া এলইডি-র মাধ্যমে গোলাপি ও নীল আলোর ব্যবস্থা এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে ওই জাফরান ফার্মের মধ্যে।

আরও পড়ুন: পরিচিতরা বলেছিল দিনমজুর হতে, বাস ড্রাইভারের ছেলে UPSC ক্র্যাক করে আজ IAS

বর্তমানে, লুধিয়ানার ফার্মটিতে সাতজন কর্মচারী কাজ করছেন। পাশাপাশি, তারা অন্যদেরও এই ফসল চাষের প্রশিক্ষণও দেন। জাফরান চাষ শুরু করতে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য আস্তিকা ও শঙ্কর নারুলা নামমাত্র ফি-তে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকেন। তাঁদের এই সাফল্য বহু তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের চিরাচরিত ক্যারিয়ারের বাইরে এসে নতুন কিছু করার ও উদ্যোগপতি হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। 

3 thoughts on “বদ্ধ ঘরেই জাফরানের চাষ করে তাক লাগলেন ভাই-বোনের জুটি, মাসে আয় ১৮ লক্ষ”

  1. This site captures the true spirit of a lively gaming lounge where every visitor is treated like family. The colors pop and the games spin with such great energy. I always leave feeling satisfied and eager to return for another round. mxbarmex777

    Reply
  2. Navigating through this platform is so straightforward that I never feel lost even during busy tournament hours. Their customer care team goes above and beyond to resolve any account queries on the spot. I always leave feeling satisfied because the games honor their stated return rates. A trustworthy choice for daily players. idipo138

    Reply
  3. I was hesitant at first because there are so many platforms out there but this one really stands out for its game variety. The slot collection keeps me entertained and the live dealer tables feel incredibly natural. A solid choice for anyone who wants a premium vibe without the stress. bdmegacasino

    Reply

Leave a Comment