বাংলার বাড়িতে অযোগ্যরাও পেয়েছে আবাস! তালিকা তৈরির নির্দেশ রাজ্যের

অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর, এরাজ্যে চালু থাকা একাধিক প্রকল্পে বিপুল দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছে নয়া সরকার। তারা তৃণমূল শাসনকালে শুরু হওয়া প্রকল্পগুলি বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত নিলেও, সেগুলির সুবিধাপ্রাপকরা সেই প্রকল্পের জন্য যোগ্য কিনা, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সম্প্রতি লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের অবৈধ সুবিধাভোগীদের নাম ছেঁটেছে সরকার (West Bengal Government)। এখন তারা ‘বাংলার বাড়ি’ (Banglar Bari Housing Scheme) প্রকল্পে কোনও অবৈধ প্রাপক আছে কিনা, তাই নিয়ে তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিযোগ উঠে আসছে, বহু মানুষ বেআইনিভাবে ওই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছেন, তাই প্রতিটি উপভোক্তার যাচাইকরণের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিবকে এই মর্মে একটি চিঠি পাঠিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পেও দুর্নীতি তৃণমূলের ?

মুখ্যসচিবের পাঠানো চিঠিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রতিটি অযোগ্য সুবিধাভোগীদের নামের তালিকা তৈরি করতে। বেআইনিভাবে বাড়ি নেওয়া প্রত্যেকের বিরূদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অমান্য করে বহু অযোগ্য  উপভোক্তা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠে আসছে, এই কারণে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তাই পুনরায় সুবিধাভোগীদের যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে। 

এর পাশাপাশি, মনরেগা বা ‘১০০ দিনের কাজ, আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্পের কথাও চিঠিতে উঠে এসেছে। এরাজ্যে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে হওয়া প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছে বিজেপি সরকারের কাছে। তাই প্রতিটি চালু থাকা প্রকল্পের বেনিফিশিয়ারিদের পুনরায় যাচাইকরণ শুরু হয়েছে। এছাড়া, ভোটার লিস্টে বিশেষ নিবিড় সংযোজন (SIR) তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে যারা ভুলভাবে প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছেন, তাদের সম্পর্কেও রিপোর্টে উল্লেখ করতে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুনঃ ব্যবসার জন্য গ্যারান্টি ছাড়া ৯০ হাজার টাকা লোন, আবেদন করুন এই সরকারি প্রকল্পে

এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি পরিবারকে ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে তিনটি ধাপে দেওয়া হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় দ্বিতীয় কিস্তিতে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার পর বাড়ি তৈরি শেষ হলে আরও ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর ১২ মাসের মধ্যেই বাড়ি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতির কেমন হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করে, কিছুটা সময় বাড়ানোও হয়। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তিনটি নয় দুই কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল। 

Leave a Comment