অনন্যা সরকার, অসম: দুটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির ভূগর্ভস্থ মাছ (Subterranean Fish) আবিষ্কৃত হয়েছে অসমের গোয়ালপাড়ায়। অসমের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বড়ুয়া এই তথ্যটি প্রকাশ্যে এনেছেন। নতুন শনাক্ত হওয়া প্রজাতি দুটির নাম রাখা হয়েছে ‘গিচাক নাকানা’ (Gitchak nakana) এবং ‘রক্তমিচথিস আঞ্চি’ (Rakthamichthys anchi)। জীববিজ্ঞানীরা এই নয়া আবিষ্কারকে উত্তর-পূর্ব ভারতের ভূগর্ভস্থ জলজ বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক তথ্যভাণ্ডারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বলে মনে করছেন। আসুন আবিষ্কৃত নতুন প্রজাতির মাছগুলি সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কী কী তথ্য সামনে এসেছে, জেনে নেওয়া যাক।
সদ্য আবিষ্কৃত ভূগর্ভস্থ মাছের প্রজাতিগুলির বৈশিষ্ট্য
‘গিচাক নাকানা’ খুবই ছোট, স্বচ্ছ এবং দৃষ্টিহীন মাছ, এদের দৈর্ঘ্য প্রায় দুই সেন্টিমিটার। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, মাছটির শরীর স্বচ্ছ হওয়ায় এদের রক্ত ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বাইরে থেকেই দেখা যায়, যার ফলে মাছগুলোকে লালচে মনে হয়। অন্যদিকে, ‘রক্তমিচথিস আঞ্চি’ হলো ঈল (Eel) মাছের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি সরু, ঈল-সদৃশ জীব। এই মাছগুলো ভূগর্ভস্থ জলাশয় ও কূপের মধ্যে টিকে থাকার উপযোগী বিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে।
অসমের পরিবেশ মন্ত্রী জানান, উইমারিথি কে. মারাক নামের এক গবেষক প্রথম একটি নমুনা সংগ্রহ করেন ও তার গবেষণার তত্ত্বাবধায়কের কাছে সেটির ছবি পাঠান। পরে, তার এক আত্মীয় একটি কূপ পরিষ্কার করার সময় আরও একটি ভূগর্ভস্থ মাছের সন্ধান পান, যা দ্বিতীয় নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত হয়। এই গবেষণার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীরাও যুক্ত ছিলেন। মাছগুলোর শারীরিক গঠন বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করার জন্য অত্যাধুনিক ‘মাইক্রো-কম্পিউটেড টমোগ্রাফি’ (মাইক্রো-সিটি) স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: লাল-নীল, ভারতীয় রেলের লোগো দুটি আলাদা রংয়ের কেন? জানুন আসল কারণ
জয়ন্ত মল্ল বড়ুয়া জানিয়েছেন যে, এই আবিষ্কার ভূগর্ভস্থ জলজ বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বের দিকে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি ও সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। এখনও পর্যন্ত এ ধরনের পরিবেশে বসবাসকারী জীবকুল সম্পর্কে খুব কম তথ্যই উপলব্ধ রয়েছে। মাছগুলোর সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা করে গবেষকরা এগুলোকে ঠিক কোন স্থানে আবিষ্কার করা হয়েছে, তা প্রকাশ করেননি। এর পাশাপাশি মন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ভূপৃষ্ঠের জলের দূষণ সহজেই ভূগর্ভস্থ জলস্তরে পৌঁছে যেতে পারে, যা এই ধরনের বিরল ও অজানা প্রজাতিগুলোর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে, অনেক বিরল প্রজাতির জীবের প্রাণ রক্ষা করতে ভূগর্ভস্থ আবাসস্থল সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।