প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: জোর করে গৃহবধূকে যৌন হেনস্থা করে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল এক বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের (Krishnanagar) কোতোয়ালি থানা এলাকায়। অভিযোগ, ধর্ষণের পর ইট দিয়ে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল অভিযুক্তের পরিবার। এমনকি বছরের পর বছর ধরে ‘নির্যাতিতা’কে স্বামী ও সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকিও দিতেন অভিযুক্ত। ইতিমধ্যেই কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণ এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগে (Krishnanagar woman assault case) একটি মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে নদিয়ার কোতোয়ালি থানা এলাকায় বছর ত্রিশের এক বধূর বাড়িতে মদ্যপ অবস্থায় গিয়েছিলেন অভিযুক্ত সুদীপ সরকার নামের এক বিজেপি কর্মী। ওই সময় নাকি মহিলার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। নাবালক পুত্র অন্য ঘরে ছিল। শ্বাশুড়িকে রাতের খবর দেওয়ার পর তিনি স্বামীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন এবং ঘরের মধ্যে শুয়ে শুয়ে ফোন দেখছিলেন। অভিযুক্ত নাকি তাঁদের বাড়ির পাঁচিল টপকে ঘরে ঢুকে জোর করে তাঁকে ধর্ষণ করেছিল। পরে এই নিয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁকে মারধর করেন ওই যুবক। শুধু তাই নয়, কয়েক জনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতেও হামলা করেন।
আরও পড়ুন: অস্বাভাবিক মৃত্যু সহকারী পরিচালক দীপঙ্কর সরকারের, কী হয়েছিল?
মুখ খুললেন নির্যাতিতা
স্থানীয়দের তরফে জানানো হয় অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীর সঙ্গে নাকি ‘নির্যাতিতা’র ঘনিষ্ঠতা ছিল বিগত কয়েক বছরে। পরে যদিও তাঁদের সম্পর্কের অবনতি হয়। তখন থেকে মহিলাকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেন ওই ব্যক্তি। এই কথা নিজেও স্বীকার করেছিলেন ওই মহিলা। তিনি জানান, “একসময় জোর করে সম্পর্ক তৈরি করেছিল ওই বিজেপি কর্মী, পড়ে সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এলেও এখনও আমাকে হুমকি এবং নির্যাতন করে চলেছে।” ধর্ষণ এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগে পুলিশে অভিযোগ করেছে ‘নির্যাতিতা’র পরিবার। অন্যদিকে নির্যাতিতাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে এখন সে সুস্থ আছে।
তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ
‘নির্যাতিতা’র পরিবারের দাবি, “অভিযুক্ত যুবক এলাকায় প্রভাবশালী এবং শাসকদলের কর্মী। ওই লোকটার সঙ্গে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি বিধায়কের একাধিক ছবি আছে। সেগুলো দেখিয়ে আমায় ভয় দেখাত। বলত, ওর কিছুই হবে না। পুলিশের কাছে অভিযোগ করার পরেও ওর রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য ব্যবস্থা নিতে দেরি হচ্ছে।” অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। ‘নির্যাতিতা’র বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১৩ ঘণ্টা পর কাটল বিপদ, পাণ্ডবেশ্বর খনির ভিতর থেকে উদ্ধার হল ১২ শ্রমিক
অন্য দিকে, তাঁর ছবি দেখিয়ে ‘ভয় দেখানোর’ অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখ খোলেন কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক সাধন ঘোষ। বিধায়ক বলেন, ‘‘ভোটে জেতার পর অনেকেই এসে সংবর্ধনা দিয়েছে। সেল্ফি তুলেছে। রাস্তাঘাটে অনেকেই সেল্ফি তোলার আবদার করে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে এমন আবদার রাখতে হয়। শুধুমাত্র একটা ছবি দিয়ে এ ভাবে আমার নাম জড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এমন কাউকে আমি চিনি না। তবে যদি ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।”