আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বাল্যবিবাহ (Child Marriage) রুখতে এবার বিরাট পরিকল্পনা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। বিয়ের মরশুম শুরু হওয়ার আগে এই সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে ১০০ দিনের বিশেষ প্রচার কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নাবালিকাদের বিয়ে আটকাতে মুখ্যমন্ত্রী বারবার সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন। এমনকি বাল্যবিবাহের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এবার সেই উদ্যোগকে আরও জোরদার করতে নতুন কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রাজ্য ও কেন্দ্র যাতে একসঙ্গে এই প্রচার চালাতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে রাজ্যের নারী ও শিশু সুরক্ষা দপ্তরের তরফে কেন্দ্রকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, সেই চিঠিতে কেন্দ্রের সাড়া মিলেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালানোর কথা রয়েছে।
এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কী?
এই ১০০ দিনের প্রচার কর্মসূচিতে বাল্যবিবাহের কুফল এবং এর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে বিস্তারিতভাবে সচেতন করা হবে। বিশেষ করে ১৮ বছরের কম বয়সি মেয়েদের বিয়ে কেন আইনত অপরাধ, অল্প বয়সে বিয়ে হলে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সেই বিষয়গুলি তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি, আইন অমান্য করে জোর করে নাবালিকার বিয়ে দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে, তা-ও প্রচারের মাধ্যমে বোঝানো হবে। রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়াই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। যাতে কোনও পরিবার অজ্ঞতা বা সামাজিক রীতিনীতির অজুহাতে নাবালিকার বিয়ে না দেয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এর আগেও বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি রাজ্যে নাবালিকাদের বিয়ে ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের সন্তান প্রসবের ঘটনা ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন। বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাড়ি বাড়ি নজরদারি চালিয়ে এই ধরনের ঘটনা চিহ্নিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সচেতনতার বার্তাও দিয়েছেন। এবার ১০০ দিনের বিশেষ প্রচারের মাধ্যমে সেই বার্তা আরও বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: হস্তক্ষেপ করেনি হাইকোর্ট, ঋতব্রতদের বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে শোভনদেব
এই প্রচার কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে দেশজুড়ে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনার নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যের ব্লক, গ্রাম এবং স্থানীয় স্তরে মানুষের কাছে এই অপরাধের পরিণতি তুলে ধরা, নাবালিকাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনিক উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করাই এর মূল উদ্দেশ্য।