সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দারিদ্রতা, অভাব আর সীমাহীন সংগ্রামের মাঝেও যদি লক্ষ্য ঠিক থাকে, তাহলে সাফল্য যে একদিন ধরা দেয় তার বাস্তব উদাহরণ পবন কুমার (Pawan Kumar)। ছাউনি দেওয়া ঘর, বৃষ্টির দিনে ছাদ ফুড়ে জল পড়া, আর অর্থের সংকট এই সব কিছুর মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। আর শেষ পর্যন্ত দেশের সবথেকে কঠিন পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করলেন (IAS Success Story)। হ্যাঁ, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় তিনি ২৩৯ র্যাঙ্ক অর্জন করে প্রশাসনিক পরিষেবায় জায়গা করে নিয়েছেন।
অভাবের মধ্যেই বেড়ে ওঠা
আমার উজালার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের ছোট্ট গ্রামে জন্ম পবনের। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। এমনকি খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি। তাঁদের কাছে মাত্র চার বিঘা জমি আর একটি ছোট্ট ঘর ছিল থাকার জন্য। অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে বৃষ্টির সময় ঘরের ছাদ দিয়ে জল পড়ত, এমনকি দেওয়াল ভিজে যেত। কিন্তু তাতেও পড়াশোনা থামায়নি পবন। বই নিয়ে বসে থাকতেন ঘরের এক কোণে আর নিজের মনেই পড়াশোনা করতেন। তাঁর বাবা মুকেশ কুমার বলেন, ছোটবেলা থেকেই পবন বলত, আর একটু সময় দিন সবই বদলে যাবে।
এমনকি পবনের স্বপ্ন পূরণ করতে গোটা পরিবার একসঙ্গে লড়াই করেছে। হ্যাঁ, বাবা এবং তিন বোন অন্যের জমিতে কাজ করতেন আর মা নিজের গয়না বিক্রি করে পড়াশোনার খরচ চালাতেন পবনের। পাশাপাশি পরিবারকে ঋণও নিতে হয়েছে। আর সেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পড়াশোনা কখনো বন্ধ হয়নি। অবশেষে তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের পরিশ্রমের দাম দিলেন।
উল্লেখ করার বিষয়, ২০১৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর পবনের বাবা চেয়েছিলেন যে, ছেলে সেনাবাহিনীতে যোগ দিক বা দ্রুত কোনও চাকরি পাক। কিন্তু পবনের লক্ষ্য ছিল সিভিল সার্ভিস। শেষ পর্যন্ত বাবা ছেলের স্বপ্নকে সম্মান জানিয়েই পাশে দাঁড়ান, এবং বলেন যে “তুমি যা চাও সেটাই কর, আমরা সবাই তোমার সঙ্গে আছি।” জানা যায়, পরিবার প্রায় ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে পবনের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছিল। আর সেই টাকায় একটি পুরনো মোবাইল ফোনও কেনা হয়েছিল যা দিয়ে তিনি পড়াশোনা করতেন। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, সিভিল সার্ভিসের ফল প্রকাশের দিনও তাঁর পরিবার মাঠে কাজ করতে গিয়েছিল। কারণ, তাঁদের মাথার উপর ছিল বড় ঋণের বোঝা।
আরও পড়ুন: বসতে পারে ট্যাক্স, দামি হওয়ার পথে Jio থেকে Airtel-র রিচার্জ! এবার কতটা?
এদিকে একসময় তাঁদের বাড়িতে গ্যাস সিলেন্ডার ভরানোর টাকা পর্যন্ত ছিল না। হ্যাঁ, পবনের মা সুমনা দেবী তখন কাঠের উনুনেই রান্না করতেন। সবথেকে বড় ব্যাপার, বাড়ির হ্যান্ডপাম্প নষ্ট থাকার কারণে পরিবারের সদস্যদের কাছের এক সরকারি স্কুল থেকেই জল এনে ব্যবহার করতে হতো। জানা যায়, কলেজে স্নাতক শেষ করার পর পবন সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়েই ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন তিনি। যার সাফল্য তিনি নিজেই পেলেন। এক কথায়, তাঁর এই জীবন সংগ্রাম আজকালকার দিনে বহু বেকার যুবক-যুবতীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।