বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: নরেন্দ্র মোদি সরকারের মেক ইন ইন্ডিয়া কর্মসূচির অধীনে দেশের মাটিতেই বাণিজ্যিক বিমান তৈরি করবে আদানি গ্রুপ (Adani-Embraer Deal)। সেই লক্ষ্যেই এবার ব্রাজিলের এক বড় সংস্থার সাথে গাঁটছড়া বাঁধল গৌতম আদানির সংস্থা। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, আদানি অ্যারোস্পেস অ্যান্ড ডিফেন্স ইতিমধ্যেই ব্রাজিলের বৃহৎ সংস্থা এমব্রেয়ারের সাথে একটি বিরাট চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আগামী দিনে এই চুক্তির অধীনেই ভারতে বাণিজ্যিক বিমান তৈরি করবে আদানি। যদিও বিমান তৈরির কারখানা কোথায় তৈরি হবে এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি দুই সংস্থা।
খুব শীঘ্রই বাণিজ্যিক বিমান তৈরির বিষয়ে তথ্য দেবে আদানি গ্রুপ
বলে রাখি, এয়ারবাস এবং বোয়িংয়ের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা ব্রাজিলের এমব্রেয়ার। এবার সেই সংস্থার সাথেই কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডুর উপস্থিতিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ে চুক্তি করেছে আদানি অ্যারোস্পেস অ্যান্ড ডিফেন্স। এই বিশেষ চুক্তির অধীনে আগামীতে ভারতে বিমান চলাচলের এক সুস্পষ্ট বাস্তুতন্ত্র তৈরি হবে বলেই আশা করছে দুই সংস্থা। এ নিয়ে, আদানির প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ সংস্থার পরিচালক জিৎ আদানি জানিয়েছেন, “ব্রাজিলের সংস্থার সাথে চুক্তি হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক বিমানগুলি কোথায় তৈরি হবে, এর কারখানা কোথায় স্থাপন করা হবে এ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আশা করছি খুব শীঘ্রই আমাদের পরিকল্পনা সর্বসমক্ষে রাখতে পারব। যত দ্রুত সম্ভব কারখানা নির্মাণ করে কাজ শুরু করতে হবে।”
এদিকে ব্রাজিলের বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থার তরফে খুব স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, “আমরা সমান অংশীদারিত্বের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। বাণিজ্যিক বিমান তৈরি নিয়ে গোটা বিষয়টাই আপাতত আলোচনার পর্যায়ে। আশা করছি খুব শীঘ্রই সবটা জানাতে পারব। আমরা যৌথভাবে আঞ্চলিক পরিবহন বিমানের জন্য একটি সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র তৈরি করতে চাই।” বলা বাহুল্য, আদানি এবং ব্রাজিলের সংস্থার হাত ধরে বাণিজ্যিক বিমানের যে বাস্তুতন্ত্র তৈরি হতে চলেছে তার অধীনে থাকছে বাণিজ্যিক বিমান উৎপাদন, তার সরবরাহ শৃংখল, আফটারমার্কেট পরিষেবা, এমআরও এমনকি পাইলটদের প্রশিক্ষণও। এ প্রসঙ্গে ব্রাজিলের বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থাটির কমার্শিয়াল এভিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জানিয়েছেন, “এমব্রেয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার হতে চলেছে ভারত।” আগামী দিনে ভারতীয় বিমান ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা জুড়তে উদগ্রীব দুই সংস্থা।
অবশ্যই পড়ুন: SIR নিয়ে টানাপোড়েন! আজই নবান্নে অখিলেশ-মমতার বৈঠক
উল্লেখ্য, ভারতীয় বিমান পরিবহন খাতে ব্রাজিলিয়ান সংস্থাটি নতুন নয়। ইতিমধ্যেই এই সংস্থার 11 ধরনের মোট 50টি বিমান এদেশে চলাচল করে। প্রত্যেকটি বিমান পরিচালনা করে এই সংস্থা। ব্রাজিলের সংস্থাটির বিমানগুলি ব্যবহার করে থাকে মূলত ভারতীয় বিমান বাহিনী থেকে শুরু করে সরকারি বিমান সংস্থা এমনকি স্টার এয়ারের মতো আঞ্চলিক বিমান সংস্থাগুলি।
k
z