ভারতের এই শহরে ডিম বিক্রি করলে হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড!

অনন্যা সরকার, গুজরাট: ভারতবর্ষে (India) বিভিন্ন ধর্মীয় ভাবাবেগের মানুষ বসবাস করেন। এদেশের বিভিন্ন প্রদেশের খাদ্যাভ্যাসও আলাদা আলাদা। কোনো কোনো অঞ্চলের মানুষ শুধুমাত্র সাত্ত্বিক ভোজন করেন, আবার কিছু প্রদেশের মানুষের আমিষ ছাড়া চলেনা। ভারতে অনেক ধর্মীয় স্থান রয়েছে, যেখানকার মানুষরা আমিষ খাবার এড়িয়ে চলেন। কিন্তু গুজরাটের ভাবনগর জেলায় অবস্থিত পালিতানা (Palitana) শহরে নেওয়া হয়েছে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যা সারা বিশ্বের নিরিখেও নজিরবিহীন। ২০১৪ সালে পালিতানাকে সম্পূর্ণভাবে নিরামিষাশী শহর (Vegetarian City) বলে ঘোষণা করা হয়। এখানে মাছ, মাংস এবং ডিম খাওয়া ও বিক্রি করা নিষিদ্ধ। প্রাচীন জৈন মন্দিরগুলির পবিত্রতা রক্ষা করার জন্যই সেই স্থানের প্রশাসন নিরামিষ খাদ্যাভ্যাসকে বাধ্যতামূলক করেছে। পালিতানায় কেউ ডিম বিক্রি করলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। 

পালিতানায় আমিষ খাবারে নিষেধাজ্ঞা

গুজরাটের শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের কোলে অবস্থিত পালিতানা শহরে ৯০০ টিরও বেশি অসধারণ কারুকার্য খচিত জৈন মন্দির রয়েছে। তাই এই শহরটিকে জৈনধর্মের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান মানা হয়। জৈন ধর্মে অহিংসা পরম ধর্ম। তাই তারা যেকোনো প্রাণীর হত্যার বিরোধী। ২০১৪ সাল নাগাদ প্রায় ২০০ জন জৈন ভিক্ষু এই পবিত্র স্থানের মর্যাদা রক্ষার জন্য অনশন শুরু করেন। তারা দাবি জানান, এই ধর্মীয় স্থানের আশেপাশে অবস্থিত প্রায় ২৫০টি কসাইয়ের দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং সরকার তাদের দাবি মেনে নেয়।

আইন লঙ্ঘন করলে কী শাস্তি হয়?

জৈন সন্ন্যাসীরা দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ চালানোর পর অবশেষে গুজরাট সরকার পালিতানা শহরের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মাংস ও ডিমের বিক্রি এবং পশু জবাই করা নিষিদ্ধ করে দেয়। শহরের সীমানার মধ্যে ডিম ও আমিষ খাবার বিক্রি করা ও পরিবেশন করাও আইনত দন্ডনীয়।  যারা এই আইন ভাঙ্গবেন তাদের  বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি হতে পারে কারাদণ্ডও। ফলে এই শহরে নিরামিষ ভোজন করা আর ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, এটি বাধ্যতামূলক। 

তবে, পালিতানায় এরকম কঠোর নিরামিষভোজনের আইন আরোপ করার ফলে  মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। পর্যটন ব্যবসায়ী থেকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ব্যক্তিরা সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের মতে, একটি জনবহুল শহরের বাসিন্দাদের খাদ্যাভ্যাসের উপর এই ধরনের এই নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার ঠিক নয়। অ-জৈন বাসিন্দা ও দরিদ্র শ্রমিকদের জীবিকার উপরও এই আইন উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলেছে।

আরও পড়ুনঃ আবাস যোজনায় ঘর করলে বালি মিলবে মাত্র ১৫০০ টাকায়, বড় ঘোষণা

তবে বিতর্ক ও সমালোচনা সত্ত্বেও, পালিতানা পৃথিবীর একমাত্র শহর যেখানে কঠোর নিরামিষভোজন আইন লাগু রয়েছে। এই অভিনব শহরটি প্রাচীন ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধুনিক শাসনব্যবস্থার সংমিশ্রণের একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে। এর চমৎকার মন্দিরগুলোর আকর্ষণে প্রতি বছর সারা বিশ্ব থেকে বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রী পালিতানায় আসেন। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের এমন অনন্য আইনের মাধ্যমে এই শহরটি ইতিহাসে পাতায় নাম নিজের লিখিয়েছে।

Leave a Comment