ভারতে এলে পাসপোর্ট, ভিসা ছাড়াও লাগবে এই বিশেষ ডকুমেন্ট, এপ্রিলে চালু নয়া নিয়ম

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আপনি কি বিদেশ থেকে ভারত ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? তাহলে আপনার জন্য রইল বড় খবর (Travel Guide)। কারণ, ১ এপ্রিল থেকে ভারতের সমস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখার নিয়মে পরিবর্তন করেছে কেন্দ্র সরকার। হ্যাঁ, এখন থেকে শুধুমাত্র পাসপোর্ট আর ভিসা থাকলেই ভারতে আসতে পারবেন না, বরং আন্তর্জাতিক যাত্রীদের পকেটে রাখতে হবে একটি বিশেষ ই-অ্যারাইভাল কার্ড (E-Arrival Card)। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্যই ভারত সরকারের এই পদক্ষেপ। এর ফলে পুরনো আমলের সেই হাতে লেখা ফর্ম ফিলাপের দিন এবার শেষ হতে চলেছে।

কী এই ডিজিটাল ই-অ্যারাইভাল কার্ড?

আসলে এতদিন পর্যন্ত বিদেশ থেকে ভারতে আসার সময় বিমানে বসে যাত্রীদেরকে ইমিগ্রেশনের জন্য একটি কাগজের ফর্ম পূরণ করতে হতো। আর বিমানবন্দরের নামার পর সেই ফর্ম জমা দিতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো পর্যটকদের। তবে ১ এপ্রিল থেকেই এই গোটা প্রক্রিয়া ডিজিটাল ভাবে শুরু হয়েছে। এখন থেকে যাত্রীরা ভারতে পৌঁছনোর অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে থেকেই এই ফর্ম অনলাইনের মাধ্যমে পূরণ করে নিতে পারবে।

কীভাবে মিলবে এই সুবিধা?

প্রসঙ্গত, নতুন এই ব্যবস্থায় ফর্ম পূরণ করা অত্যন্ত সহজ এবং কোনও রকম ঝামেলা ছাড়াই এই ফর্ম পূরণ করা যাবে। অনলাইনে সাধারণ কিছু তথ্য দিয়ে ফর্ম জমা দিলেই আপনার ফোনে একটি কিউআর কোড চলে আসবে। আর ফর্ম পূরণের জন্য কেবলমাত্র পাসপোর্ট নম্বর, বিমানের টিকিটের নম্বর এবং ভারতে থাকার ঠিকানা এই সমস্ত তথ্য দিলেই চলবে। আলাদা করে কোনও রকম নথি আপলোড করার প্রয়োজন পড়বে না। এমনকি একটি ডিজিটাল ফর্মে পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্যের তথ্য নথিভুক্ত করা যাবে। আর বিমানবন্দরে নামার পর ইমিগ্রেশন কাউন্টারে মোবাইলে থাকা ওই কিউআর কোডটি দেখালেই ঝামেলা শেষ।

আরও পড়ুন: সোনা পাপ্পুর ডেরা থেকে কত সম্পত্তি, গোল্ড উদ্ধার করল ইডি? হিসেব চমকে দেবে

কারা পাবে এই সুবিধা?

সরকারের দেওয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিদেশী পর্যটক এবং ওসিআই কার্ডধারীরা একমাত্র এই  ই-অ্যারাইভাল কার্ডের সুবিধা পাবে। কিন্তু ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য রয়েছে স্বস্তির খবর। তাদের এই ফর্ম পূরণ করার কোনও রকম প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে উল্লেখ করার বিষয়, পাইলট প্রজেক্টে দেখা গিয়েছিল, এই ডিজিটাল কার্ড ব্যবহারের ফলে ইমিগ্রেশনের সময় প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। আর এতে যেমন কাগজের অপচয় কমবে, ঠিক তেমনই সময় এবং ঝামেলা দুটোই কমবে।

Leave a Comment