সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের হিংসার আগুন মণিপুরে (Manipur Violence)। গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে হিংসায় এই রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৯ জনের এবং আহত অনেকে। পাশাপাশি চাসাদ জেলায় অন্তত ১০টি বাড়ি এবং ২০টি দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেই খবর। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বারস্থ হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। যদিও প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে শান্তি ফেরাতে সর্বাত্মকভাবে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন।
মণিপুরে ফের অশান্তি
২০২৩ সাল থেকে শুরু করে হিংসার আগুনে জ্বলছে মণিপুর। রাজ্যটিতে অন্তত ২৬০-এর বেশি মানুষ এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন। নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতেই আমজনতার মধ্যে কাজ করছে আতঙ্ক। কামজং জেলার চাসাদে শনিবার সকালে সন্দেহভাজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর গুলিতে ২৩ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয় বলে খবর। এই ঘটনা থেকেই নতুন করে আবার হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালীন অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৩ জন। সেই সূত্রে উপজাতীয় ঐক্য কমিটি শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকেই কাংপোকপি জেলাজুড়ে ২৪ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে।
এদিকে গত সপ্তাহে রাজ্যে বেশ কিছু হিংসার খবর সামনে আসে। ১৩ সেপ্টেম্বর দুটি পৃথক হামলায় চারজন কুকি সম্প্রদায়ের মানুষ নিহত হন। অন্যদিকে শুক্রবার রাত প্রায় ৯:৪০ মিনিট নাগাদ চাসাদে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন পাঁচ সন্তানের মা ডোমখোনেই তুথাং। একইভাবে শনিবার সকাল সাড়ে ন’টার দিকে কামজং জেলার মণিপুর-মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন নিমচৌ গ্রামে দুই নাগা গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যাদের বয়স যথাক্রমে ৩৫ বছর এবং ৪৮ বছর।
আরও পড়ুন: যৌনতৃপ্তি মেটাতে পুরুষাঙ্গে ঢোকান সেফটিপিন, হেয়ার ক্লিপ! তাজ্জব কাণ্ড দুর্গাপুরে
হিংসা ছড়াতেই শনিবার চাসাদ এবং তার আশপাশ সংলগ্ন অন্তত ১০টি বাড়ি এবং ২০টি দোকান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়ও। এমনকি বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলেই খবর। সেই সূত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ২০২৩-এর ১৬৪ ধারা জারি করেছেন ওই এলাকায়, এবং পরবর্তী নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে বলেই জানানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ সিং প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন, এবং সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে পিএমও ইন্ডিয়ার তরফ থেকে।