প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গত সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা। এ বছর মোট পরীক্ষার্থী হয়েছে ৯ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৪০ জন। যার মধ্যে ছাত্রদের সংখ্যা ৪ লক্ষ ২৬ হাজার ৭৩৩ জন এবং ছাত্রী ৫ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬০৬ জন। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি এবারেও মেয়েদের সংখ্যা বেশি। অন্যদিকে রাজ্য জুড়ে মোট ২,৬৮২টি পরীক্ষাকেন্দ্রে চলছে মাধ্যমিক। এমতাবস্থায় মাধ্যমিকের উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে দায়ের হল হাইকোর্টে (Calcutta High Court) জনস্বার্থ মামলা।
মাধ্যমিকের মূল্যায়ন নিয়ে জনস্বার্থ মামলা
রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মাধ্যমিকের উত্তরপত্র মূল্যায়ন সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলাটি শুনানির ছিল। সেখানে মামলাকারীর দাবি, উত্তরপত্রে পরীক্ষার্থীর নাম বা রোল নম্বর থাকলে মূল্যায়নের সময় পক্ষপাতের সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই নাম ও রোল নম্বর—দু’টিই বাদ দিয়ে খাতা মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা উচিত। এর জবাবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আইনজীবী জানায় যে, বিগত সাত দশক ধরে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে এই প্রথাতেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। কখনও কোনও পরীক্ষার্থী এ নিয়ে অভিযোগ করেনি।
আরও পড়ুনঃ ১৫০০ টাকা ভাতা! জানুন বাংলার যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্ট
গোপনীয়তা নিয়ে কী বলছে রাজ্য?
প্রসঙ্গত, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার উত্তরপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় পড়ুয়াদের নাম ও রোল নম্বর লিখতে হয়। কিন্তু এই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। মাধ্যমিকের উত্তরপত্র মূল্যায়নে গোপনীয়তা বজায় রাখার দাবি প্রসঙ্গে রাজ্যের তরফে জানানো হয় যে, “এখনও পর্যন্ত কোনও পরীক্ষার্থী বা অভিভাবক এই ধরনের পক্ষপাতিত্বের কোনও অভিযোগ তোলেনি। বরং কোনও পরীক্ষার্থী রোল নম্বর লিখতে ভুল করলে, নাম দেখেই তা সংশোধন করা হয়।” আর এই জবাব সওয়ালের মাঝেই প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল প্রশ্ন তোলেন, “মূল্যায়নের সময় নাম গোপন রাখার ব্যবস্থা করা কি সম্ভব? এটা নিশ্চয়ই কোনো রকেট সায়েন্স নয়!”
আরও পড়ুন: আরজি কর দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট ED-র, সন্দীপ ছাড়াও উঠল আরও ২ জনের নাম
শুনানি চলাকালীন কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে যে মাধ্যমিক পরীক্ষায় মূল্যায়নের সময় নাম গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে একমাত্র রাজ্য সরকার বা শিক্ষা দফতরের। যদিও রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, এই বিষয়ে রাজ্যের কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই। এরপরই সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত নির্দেশ দেয়, উত্তরপত্র মূল্যায়নের আগে পরীক্ষার্থীদের নাম ও রোল নম্বর গোপন রাখা সম্ভব কি না—তা শিক্ষা দফতরকে খতিয়ে দেখে জানাতে হবে। এবং এর জন্য রাজ্যকে তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। আর তখনই হবে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।