সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তৃণমূলের আমলে বন্ধ হয়েছিল গোবরডাঙার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল (Gobardanga Hospital)। স্থানীয় গোবরডাঙা, ঠাকুরনগর, বা মসলন্দপুর এলাকার মানুষদের একমাত্র ভরসা ছিল এই হাসপাতালটি। তবে আজ থেকে ১২ বছর আগে জমি জটিলতার কারণে তালা পড়ে এই হাসপাতালে। কিন্তু রাজ্যে সরকার বদল হতেই নতুন করে আশার আলো দেখছে গোবরডাঙারবাসী। শুক্রবার মসলন্দপুরে কালীপুজোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে এই হাসপাতাল পুনরায় চালুর আশ্বাস নিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মার্চ মাসের মধ্যেই চালু হচ্ছে গোবরডাঙা হাসপাতাল
প্রাথমিকভাবে ৩০টি বেড ছিল এই হাসপাতালে। এলাকাবাসীর প্রধান ভরসা ছিল এই চিকিৎসাকেন্দ্র। তবে গত ১২ বছর ধরেই বন্ধ রয়েছে হাসপাতালটি। তৃণমূলের আমলে গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর এবং বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে নতুন সরকারের আমলে ফের খুলছে হাসপাতালের দরজা। এমনকি এবার আর ৩০ বেড নয়, একেবারে ১০০ বেড নিয়েই এই হাসপাতাল খুলবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিয়ে গেলেন বড় ভরসা।
শুক্রবার মসলন্দপুর ত্রিমূর্তি সংঘের কালীপুজো উদ্বোধন করতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে এই হাসপাতাল পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, “জানিয়ে গেলাম, গোবরডাঙা, আপনাদের যে হাসপাতাল রয়েছে, মাত্র ৩০ বেডের। এটা আগামী মার্চ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে পরিণত করে, অন্তত ১০০ বেডের হাসপাতাল, সাথে যাতে আপনারা ন্যূনতম মেডিকেল পরিষেবাগুলি এখান থেকে পান, বিশেষ করে বাচ্চাদের এসএনসিউ কেন্দ্র থেকে প্রধানমন্ত্রী জনৌষধি কেন্দ্র থেকে এগুলো করা যায়, তার প্রতিশ্রুতি এবং ঘোষণা দিয়ে আপনাদের সকলকে কালীপুজো, দিপাবলী, ধনতেরাস, ভূত চতুর্দশী, গোবর্ধন পুজো, ভাতৃদ্বিতীয়া—সবকিছুর অনেক অনেক অনেক সনাতনী শুভেচ্ছা জানালাম।”
আরও পড়ুন: সুমিত রায়ের জামিনের আবেদনে সাড়া দিল না হাইকোর্ট, কী বলল আদালত?
প্রসঙ্গত, গত জুন মাসেই গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর এই হাসপাতাল পরিদর্শন করতে আসেন। সেখান থেকে তিনি আশ্বাস দিয়ে যান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। হাসপাতালটি বর্তমানে জেলা পরিষদের অধীনে থাকায় এটিকে সরাসরি রাজ্য সরকারের অধীনে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব এই হাসপাতালকে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া।