মালদ্বীপের নেওয়া ঋণের সুদও মেটাল ভারত, বন্ধুকে ‘বাঁচাতে’ দিল্লির খরচ সাড়ে ৪ কোটি ডলার

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: চিরকালই প্রতিবেশী দ্বীপ রাষ্ট্র মালদ্বীপকে (Maldives) সাহায্য করতে এক পা এগিয়ে রেখেছে ভারত (India)। সেই মতোই, এর আগে বারবার দেশটিকে আর্থিক সাহায্য করেছে নয়া দিল্লি। 2019 সালে মালদ্বীপকে 150 মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ট্রেজারি বিল সংক্রান্ত আর্থিক সুবিধা দিয়েছিল ভারতের সবচেয়ে বড় পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক SBI। মূলত প্রতিবেশী দ্বীপ রাষ্ট্রটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই সাহায্য করেছিল নয়া দিল্লি। পরবর্তীতে এই অর্থ পরিশোধের মেয়াদও বারবার বাড়িয়েছিল ভারত। এখানেই শেষ নয়, এই বিপুল অর্থ ঋণ হিসেবে নেওয়ায় মালদ্বীপের পাঁচ বছরের সুদ হয়েছিল 45 মিলিয়ন ডলার। অবাক করা বিষয়, সেই সুদের বোঝাও নিজের কাঁধেই নিয়েছে ভারত!

মালদ্বীপের সুদ নিজেই মেটাল ভারত

ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক মালদ্বীপকে যে 150 মিলিয়ন ডলারের আর্থিক সাহায্য করেছিল সেই অর্থ পরিশোধ করতে যথেষ্ট সমস্যা হয়েছে প্রতিবেশী দ্বীপ রাষ্ট্রটির। সে কারণে বিগত বছরগুলিতে ভারতের তরফে ওই টাকা ফেরানোর মেয়াদও বাড়ানো হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত ঋণের অর্থ ফিরিয়ে দিয়েছে মালদ্বীপ। তবে 5 বছরের হিসেবে 150 মিলিয়ন ডলারের যে সুদ হয়েছিল সেই 45 মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ সাড়ে 4 কোটি ডলার ভারতকে ফিরিয়ে দিতে পারেনি দেশটি। ঠিক সে কারণে সেই সুদের বোঝা নিজের কাজে নিয়েছে নয়া দিল্লি।

রিপোর্ট অনুযায়ী, আসলে ভারত নিজে থেকেই মালদ্বীপকে সুদের অর্থ দিতে দেয়নি। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, নিজস্ব দিনের সুদ নিজেই পূরণ করছে ভারত। তবে মালদ্বীপের তরফে ঋণের সমস্ত অর্থ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেষবারের মতো গত 17 সেপ্টেম্বর, 50 মিলিয়ন ডলারের শেষ কিস্তি মিটিয়ে দিয়েছে প্রতিবেশী দ্বীপ রাষ্ট্র। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, মালদ্বীপের বিপুল অঙ্কের সুদ নিজে থেকে ভারত মিটিয়ে দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

 

আরও পড়ুন: এ বছরই শেষ হচ্ছে কাজ, কবে খুলবে নতুন কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন? জানুন তারিখ

প্রসঙ্গত, মালদ্বীপের বিপুল ঋণের সুদ ভারত মুকুব করে দেওয়ায় অনেকটাই চাপ কমেছে প্রতিবেশী দেশটির। কূটনৈতিক মহলের কেউ কেউ বলছেন, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নয়া দিল্লির অনেকটাই কাছাকাছি আসতে চলেছে মালে। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে মালদ্বীপ আর্থিক সমস্যায় পড়লে ঠিক একইভাবে পাশে দাঁড়াবে ভারত। সেক্ষেত্রে প্রতিবেশীকে যাতে আর্থিক দিক থেকে চাপে পড়তে না হয় সেই দিকটাও মাথায় রাখবে নয়া দিল্লি।

Leave a Comment