অনন্যা সরকার, কলকাতা: রাজ্যে যেমন একদিকে পুরোনো বৈদ্যুতিক মিটার সরিয়ে স্মার্ট মিটার লাগানোর কাজ শুরু হচ্ছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এবার প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: মুফ্ত বিজলি যোজনা (PM Surya Ghar: Muft Bijli Yojana)-এর অধীনে বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল লাগানোর সুযোগ পাবেন পশ্চিমবঙ্গবাসী। এর পাশাপাশি সোলার প্যানেল কমায় পরিবেশ দূষণও। রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ দপ্তর এবং অপ্রচলিত ও নবীকরণ যোগ্য শক্তির উৎস (Department of Non-Conventional and Renewable Energy Sources) বিভাগ একত্রে এই প্রকল্পটির রূপায়ণ করবে। এই প্রকল্পের অধীনে ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করা যাবে। আসুন তাহলে প্রকল্পটির সুবিধা ও শর্তগুলি সম্পর্কে বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পের সুবিধা
বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পের মাধ্যমে শুধুমাত্র গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুতের বিল কমবে এমন নয়। বরং সবুজ শক্তির (Green Energy) ব্যবহার বাড়ালে পশ্চিমবঙ্গের দূষণের পরিমাণ কমবে। গ্রিড সংযোগ করার সঙ্গে ভর্তুকির টাকা উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ঢুকবে বলে জানানো হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। এছাড়া সরকারি ব্যাংক থেকে কম সুদে ঋণ নিয়ে সৌর প্যানেল বসানোর ৯০ শতাংশ খরচ জোগাড় করা যাবে।
রাজ্যের অপ্রচলিত ও নবীকরণযোগ্য শক্তি দপ্তরের মন্ত্রী তাপস রায় বলেছেন যে, গত সরকারের আমলে রাজ্যের প্রায় ১০ কোটি মানুষ প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনার এই সুবিধা পাননি। তবে এখন বিজেপি সরকার মানুষকে সবকটি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেবে।
কিভাবে আবেদন করা যাবে প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পে?
বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, pmsuryaghar.gov.in পোর্টালে গিয়ে সরাসরি আগ্রহী ব্যক্তিরা প্রকল্পের জন্য নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। গ্রীন এনার্জির ব্যবহার বাড়িয়ে এরাজ্যকে দূষণমুক্ত করে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
কত ইউনিট বিদ্যুতের জন্য কত কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল বসানো দরকার?
যে সমস্ত বাড়িতে ২০০ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ খরচ হয় তাদের জন্য দুই কিলো ওয়াটের সোলার প্যানেল যথেষ্ট। এটি লাগানোর জন্য এককালীন ৭০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তবে পিএম সূর্য ঘর প্রকল্পের আবেদনকারীরা ২ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল লাগানোর জন্য প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা ভর্তুকি পাবেন। ফলে প্রতিমাসে বিদ্যুৎ দপ্তর ১০০ থেকে ২০০ ইউনিট সাশ্রয় করতে পারবে। আর গ্রাহকরা যেখানে প্রতিমাসের ৭০০ থেকে ১,৪০০ টাকা পর্যন্ত ইলেকট্রিক বিল দিতেন, সেখানে আর কোনও খরচই হবে না।
অন্যদিকে, ২০০ থেকে ৪০০ ইউনিট বিদ্যুৎ যাদের প্রতি মাসে খরচ হয়, তাদের বসাতে হবে ২-৩ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল। এর এককালীন খরচ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা থেকে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। সরকারি ভর্তি হিসেবে তাদের দেওয়া হবে ৬০ হাজার থেকে ৭৮ হাজার টাকা। এতে গ্রাহকরা প্রতি মাসে ১,৪০০ থেকে ২,০০০ টাকা বিদ্যুৎ খরচ বাবদ সাশ্রয় করতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ লাইসেন্সের কড়াকড়ি শেষ! তবে কি এবার ভারতে আসছে সেলফ ড্রাইভিং টেকনোলজি?
আর, ৪০০ ইউনিটের বেশি যাদের খরচ হয়, তাদেরকে লাগাতে হবে ৩ কিলোওয়াটের বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন প্যানেল। এতে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকার বেশি খরচ হলেও, সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা সরকার ভর্তুকি হিসাবে দেবে। এতে গ্রাহক প্রতি মাসে ২,০০০ টাকারও বেশি বিদ্যুৎ বিল বাঁচাতে পারবেন।
বাড়ি ছাড়াও গ্রুপ হাউসিং সোসাইটি কিংবা লিফট ও লবির আলোর মতো রেসিডেনশিয়াল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কমন সার্ভিসগুলির জন্য ছাদে সোলার প্যানেল বসালে কিলোওয়াট পিছু ১৮,০০০ টাকা করে ভর্তুকি দেবে সরকার। এই ব্যবস্থায় প্রথম কয়েক বছরের মধ্যেই সোলার প্যানেল বসানোর প্রাথমিক খরচের টাকা উঠে আসবে। তারপর বিনামূল্যে পাওয়া যাবে বিদ্যুৎ পরিষেবা।