মিলবে এটিএম-র মতো সুবিধা, রেশন ব্যবস্থায় আসছে আমূল পরিবর্তন! মুখে ফোটাবে হাসি

অনন্যা সরকার, কলকাতা: রেশন (Ration) ব্যবস্থাকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করে তোলার জন্য সরকার বিভিন্ন সময়ে নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।  পর্যায়ক্রমে এই পরিষেবাকে ডিজিটাল করার ওপর মনোযোগী হয়েছে সরকার। বর্তমানে এমন একটি সুবিধা চালু হয়েছে যার মাধ্যমে উপভোক্তারা যেকোনও দোকান থেকে আলাদা আলাদা খাদ্যশস্য ও সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবেন, কোনও নির্দিষ্ট দোকানের ওপর আর ভরসা করতে হবে না। অর্থাৎ, রেশন কার্ড হোল্ডাররা যদি চান তাহলে একটি দোকান থেকে চাল, আবার একটি দোকান থেকে গম সংগ্রহ করতে পারবেন। 

আর একটা দোকানের ওপর ভরসা করতে হবে না উপভোক্তাদের 

সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তে গ্রাহকরা একাধিক দিক থেকে উপকৃত হবেন। যেমন – রেশন দোকানের দীর্ঘ লাইন এড়ানো যাবে, এক দোকানে বায়োমেট্রিক মেশিন আঙুলের ছাপ না মিললে অন্য দোকানে গিয়ে চেষ্টা করা যেতে পারে, দোকানে কোনও খাদ্যশস্য ফুরিয়ে গেলে অসম্পূর্ণ রেশন নিয়ে আর বাড়ি ফিরে যেতে হবে না। কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী বিএল ভার্মা জানিয়েছেন যে, উপভোক্তারা চাইলে এখন একটি রেশন দোকান থেকে গম, অন্য দোকান থেকে চাল সংগ্রহ করতেই পারেন। 

কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী তার এক্স (X) অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করে জানান, দেশের সরকার বর্তমানে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান রেশন কার্ড’ (ONORC) প্রকল্পের মাধ্যমে রেশন বণ্টন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও কার্যকরী করে তোলার চেষ্টা করছে। এই প্রকল্পের অধীনে গ্রাহকরা নিজের সুবিধা মতো দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রেশন দোকান থেকে চাল, ডাল, গম ও চিনি সংগ্রহ করতে পারবেন। অনেকটা এটিএম (ATM) সিস্টেমে মতো এই ব্যবস্থা। যেমন কোনও ব্যক্তি দেশের যেকোনও প্রান্তের এটিএম থেকে প্রয়োজন মতো টাকা তুলতে পারেন, তেমনই ভারতের যেকোনও প্রান্তের রেশন দোকান থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে পারবেন। 

‘ওয়ান নেশন, ওয়ান রেশন কার্ড’ প্রকল্পের সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন রাজ্যের বাইরে থাকা কর্মী ও পরিযায়ী শ্রমিকরা। এতদিন তাদের নিজেদের স্থানীয় রেশন দোকানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হতো রেশন পাওয়ার জন্য। তবে এখন তারা দেশের যেকোনও রাজ্যে বা শহরে বসবাস করলেও বায়োমেট্রিক এবং আধার যাচাইয়ের মাধ্যমে নিজেদের প্রাপ্য রেশন সংগ্রহ করতে পারেন। 

Leave a Comment