সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারকে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্ন দেওয়ার দাবি নিয়ে এবার শুরু হলো রাজনৈতিক তরজা (Bharat Ratna For Nitish Kumar)। তবে এই দাবির সঙ্গে নিজেদের নাম জুড়তে নারাজ নীতিশ কুমারের দল জনতা দল। তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, এই দাবি দলের তরফ থেকে অফিসিয়ালভাবে জানানো হয়নি।
প্রসঙ্গত, প্রাক্তন জেডিইউ সাংসদ কে সি ত্যাগী সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি চিঠি লিখে নীতিশ কুমারকে ভারতরত্ন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের অমূল্য রত্ন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার এই সম্মানের যোগ্য দাবিদার। কিন্তু চিঠি প্রকাশ্যে আসার দু’দিনের মধ্যেই জেডিইউ এই বক্তব্য থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখল।
দল কী প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে?
আসলে জেডিইউ-র জাতীয় মুখপাত্র রাজীব রঞ্জন প্রসাদ শনিবার জানিয়েছেন, এই বক্তব্য দলের আদর্শ বা অফিসিয়াল অবস্থানের সঙ্গে কোনওভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি একাধিক মন্তব্য করে ফেলেছেন যা ব্যক্তিগত মতামত বলেই গণ্য করা উচিত। এমনকি তিনি আরও জানিয়েছেন, দলের অনেক নেতা কর্মী নিশ্চিত নয় যে, কে সি ত্যাগী বর্তমানে আদৌ কোনও সাংগঠনিক পদে রয়েছেন কিনা। আর এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নীতিশ কুমারের পক্ষ থেকে কোনওরকম প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বলে রাখি, কে সি ত্যাগী প্রায় আড়াই দশক ধরে জেডিইউ-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চরণ সিংয়ের ঘনিষ্ঠ হিসাবেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তবে উল্লেখ করার বিষয়, চরণ সিংকে নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল। আর তাঁকে এক সময় প্রাক্তন জেডিইউ সভাপতি শরদ যাদবের কাছের মানুষ ছিলেন বলে দাবি করা হয়।। কিন্তু ২০১৭ সালে শরদ যাদব দলের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছিলেন। পরে তিনি আলাদা দল গড়েন এবং আরজেডি-র সঙ্গে যুক্ত হন। আর অন্যদিকে কে সি ত্যাগী নীতিশ কুমারের পাশেই থাকেন।
আরও পড়ুন: বন্দে ভারতের স্পিড, ভাড়া মাত্র ৫ টাকা! ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন নিয়ে নয়া আপডেট
চিঠিতে কী লেখা ছিল?
আসলে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা ওই চিঠিতে কে সি ত্যাগী উল্লেখ করেছেন, ৩০ মার্চ ২০২৪ আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্মান জানানোর দিন ছিল। আপনার উদ্যোগেই তাঁদেরকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ঐদিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রাষ্ট্রপতি ভবনের এক অনুষ্ঠানে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাও, চরণ সিং, কৃষিবিজ্ঞানী এম এস স্বামীনাথন, এবং বিহারের দুবারের মুখ্যমন্ত্রী কার্পুরি ঠাকুরকে ভারতরত্ন দিয়েছিলেন। আর সেই উদাহরণ টেনে তিনি লিখেছেন, আপনার এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি, নীতিশ কুমারও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের অমূল্য রত্ন। তাই তিনিও এই সম্মানের যোগ্য। অনেকে জীবদ্দশতাই এই সম্মান পেয়েছেন।