প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এখনই শেষ হচ্ছে না সময়, রাজ্যে মুখ্যসচিব পদে বহাল থাকছেন মনোজ আগরওয়ালই (Manoj Agarwal)। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব (Chief Secretary) হিসেবে মনোজ আগরওয়ালের কাজের মেয়াদ আরও ছ’মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে মুখ্যসচিব হিসেবে মনোজ আগরওয়ালের মেয়াদ ছিল ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত। কিন্তু সেই মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য রাজ্যের (Government Of West Bengal) তরফে কেন্দ্রকে প্রস্তাব পাঠাতেই বাড়ল তাঁর কর্মক্ষেত্রের সময়সীমা। গতকাল, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের কর্মিবর্গ মন্ত্রক থেকে নবান্নে চিঠি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাড়ল মনোজের মেয়াদ
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, কেন্দ্রের চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, মনোজ ১ আগস্ট, ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত, আরও ছ’মাস মুখ্যসচিবের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। আর এই নির্দেশিকা ১৯৫৮ সালের অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস রুলের ভিত্তিতে জারি করেছে কেন্দ্র। জানা গিয়েছে, রাজ্যের তরফে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব কেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছিল গত ১৫ জুলাই। রাজ্য সরকারের পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো সেই প্রস্তাবে ওই দিনই মৌখিকভাবে সায় দিয়েছিল কেন্দ্র। এরপর গতকাল সেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসে।
নির্বাচনের সময় শুনতে হয়েছিল একাধিক কটাক্ষ
১৯৯০ সালের ব্যাচের আইএএস অফিসার মনোজ আগরওয়াল। সেই তিনিই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলে ছিলেন। সেই সময় পূর্বতন সরকারের কম কটাক্ষ তাঁকে শুনতে হয়নি। এমনকি ভোটের পর রাজ্যে যখন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসে তখন তৃণমূলের ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন মনোজ। যদিও সেই সব কটাক্ষকে বুড়ো আঙুল দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার মনোজকে মুখ্যসচিব পদে নিয়োগ করেছিল।
আরও পড়ুন: বকেয়া ডিএ’র দাবিতে ফের আন্দোলন, বড় ঘোষণা শিক্ষক সংগঠনগুলোর
প্রসঙ্গত, মনোজ আগরওয়ালের আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব হিসেবে ছিলেন দুষ্মন্ত নারিওয়ালা। ভোটপর্বে তাঁকে নিয়োগ করেছিল নির্বাচন কমিশনই। কিন্তু সরকার বদলের পর প্রশাসনিক স্তরে পুনরায় রদবদল করা হয় প্রশাসনের তরফে। আর তখনই মুখ্যসচিব পদে মনোজকে নিয়োগ করা হয়। নতুন সরকারের প্রায় সমস্ত প্রশাসনিক কর্মসূচিতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশে দেখা গিয়েছে তাঁকে। যদিও এই সমস্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আজও তৃণমূল দাবি করে যাচ্ছে যে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে বিজেপি নিজের কারসাজি চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও সেই সকল কটাক্ষ মানতে নারাজ শাসকদল বিজেপির।