সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদ নির্বাচনের ভোট গণনা ঘিরে রাজনীতির পারদ চড়েছে এক ধাপ (UP Election)। বিধানসভার আগামী নির্বাচনের আগে আজকের ফলাফলকে বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ, প্রথম দফার ফলাফলে ভারতীয় জনতা পার্টিকে বিরাট ধাক্কা খেতে হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসীতে। সেখানে শিক্ষক এমএলসি আসনে জয় ছিনিয়ে নিল প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি।
মোদীর বারাণসীতে হোঁচট খেল বিজেপি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজের নির্বাচনী এলাকা বারাণসীতে শিক্ষক এমএলসি আসনে জয়ী হয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী লালবিহারী যাদব। তাঁর ঝুলিতে গিয়েছে ১০,৯৫৮ ভোট। অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী প্রমোদ কুমার মিশ্র ৬০৬০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। যদিও এখনও এই আসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এবারের বিধান পরিষদের মোট ১১টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার ভোট গণনা চলেছে রাজ্যের মোট সাতটি জেলায়। মিরাটে শিক্ষক এবং স্নাতক উভয় আসনেই জয় তুলে নিয়েছে বিজেপি। শিক্ষক আসনে বিজেপির শ্রীচন্দ্র শর্মা এবং স্নাতক আসনে দীনেশ গোয়েল প্রায় ১৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।
তবে ভোটগণনা শুরুর পর থেকেই প্রক্রিয়া বেশ ধীর গতিতে রয়েছে বলেই অভিযোগ তুলে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লেখেন, পরিকল্পিতভাবে গণনার গতি মন্থর রাখা হয়েছে এবং ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসনের তরফ থেকে কোনওরকম কারচুপির চেষ্টা করা হলে দলীয় কর্মীরা জোড়ালো আন্দোলন গড়ে তুলবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: গণপতি বাপ্পার কৃপায় সৌভাগ্যের দরজা খুলবে ৬ রাশির! আজকের রাশিফল, ২৮ অক্টোবর
আবার অন্যদিকে বেশ কিছু জায়গায় ব্যালট পেপারে একাধিক সীলমোহর থাকা বা প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর না থাকায় কিছু ভোট বাতিল হয়েছে, যা নিয়ে গণনা কেন্দ্রগুলোতে তৈরি হয় উত্তেজনা। সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, উত্তরপ্রদেশের এই এমএলসি নির্বাচন ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলির জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নিজের সংসদীয় আসনে বিজেপির এভাবে ভরাডুবি চিন্তা বাড়াচ্ছে গেরুয়া শিবিরের।