প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মোদী সরকারের যাবতীয় নীতি নিয়ে ফের দেশজুড়ে বড়সড় বিক্ষোভের প্রস্তুতি শ্রমিকদের। জানুয়ারির পর আরো একবার আগামীকাল অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, সর্বভারতীয় ধর্মঘট (Nationwide General Strike) ডাকল ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ। জানা গিয়েছে এই ধর্মঘটের ডাকে প্রায় ৩০ লক্ষ শ্রমিক পা মেলাতে চলেছে রাস্তায়। অর্থনীতি এবং শ্রমনীতির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এই ধর্মঘটের ফলে বেশ কয়েকটি রাজ্যের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উপর প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, যার ফলে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা বিশেষ করে সরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রভাব পড়বে।
দেশ জুড়ে ধর্মঘটের ডাক কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের
রিপোর্ট মোতাবেক, আগামীকাল অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, INTUC, AITUC, HMS, CITU, AIUTUC, TUCC, SEWA, AICCTU, LPF এবং UTUC এই ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ প্ল্যাটফর্ম সর্বভারতীয় ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। আর এই ধর্মঘটে রাস্তায় নামছে কমপক্ষে ৩০ কোটি শ্রমিক। ইতিমধ্যেই জেলা ও ব্লক স্তরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জানা গিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের চারটি নতুন শ্রম আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই প্রতিবাদের সমর্থন জানিয়েছে কৃষক সংগঠন সংযুক্ত কিষান মোর্চাও। অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের পাশাপাশি ব্যাঙ্ক, ডাক, খনি, নির্মাণ, পরিবহণ ক্ষেত্র মিলিয়ে অসংখ্য কর্মচারী এই ধর্মঘটে সামিল হতে চলেছেন বলে ট্রেড ইউনিয়নগুলির দাবি।
CPI(M) General Secretary @MABABYCPIM addressed a public meeting in Jhilmil Industrial Area of East Delhi in support of the nationwide general strike on February 12.
Launching a scathing attack on the Union Government’s anti-labour codes, Comrade Baby said that the four labour… pic.twitter.com/v9E612YRWK
— CPI (M) (@cpimspeak) February 11, 2026
কী কী দাবি তোলা হচ্ছে এই ধর্মঘটে?
ধর্মঘটের জেরে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের মূল দাবিগুলো হল চারটি শ্রম আইন ও সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলি প্রত্যাহার করা, ইলেকট্রিসিটি অ্যামেন্ডমেন্ট বিল বাতিল, ড্রাফ্ট সিড বিল বাতিল, শান্তি আইন প্রত্যাহার করা, বিকশিত ভারত- গ্যারান্টি ফর রোজগার ও জীবিকা মিশন গ্রামীন আইন, ২০২৫ বাতিল এবং মনরেগা আইন পুনর্বহাল করা। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, “কৃষিশ্রমিকদের যৌথ ফোরাম আন্দোলনে নেমেছে। এবং সেই প্রতিবাদ যাতে আরও জোরদার হয় তাই সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পাঞ্চল, গ্রাম ও শহর-সব জায়গাতেই চলছে প্রচারাভিযান। বাদ যায়নি শিক্ষার্থী ও যুব সম্প্রদায়রাও। পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকরাও নানাভাবে সমর্থন জানাচ্ছে।”
আরও পড়ুন: অনুপ্রবেশ করতে গিয়ে প্রাণ নিয়ে টানাটানি, সীমান্তে বাংলাদেশি যুবককে গুলি BSF-র
দেশজুড়ে এই ধর্মঘট প্রসঙ্গে অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস বা AITUC-এর সাধারণ সম্পাদক আমরজিৎ কউর জানিয়েছেন, “গত বছরের ৯ জুলাই ধর্মঘটে যোগ দিয়েছিলেন প্রায় ২৫ কোটি। এ বার তার থেকেও বড় পরিসরে ধর্মঘট হবে ৬০০ জেলাজুড়ে। এ বার ৩০ কোটির কম শ্রমিক নামবেন না রাস্তায়।” এছাড়াও তাঁর আরও সংযোজন, “ধর্মঘটের আগুন এতটাই ভয়ংকর হবে যে ওড়িশা ও অসমে “সম্পূর্ণ শাটডাউন” হবে। শুধু তাই নয় অন্যান্য বিজেপিশাসিত রাজ্যেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।” এমনকি ব্যাংকিং পরিষেবা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষদের আগে থেকে সচেতন থাকার বার্তাও দিল যৌথ মঞ্চ।