বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতকে (India) এবার বড় ধাক্কা দিল চিন (China)! মেট্রোর সুরঙ্গ খোঁড়ার কাজে ব্যবহৃত টানেল বোরিং মেশিন (Tunnel boring machine) সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির উপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে ড্রাগনের দেশ। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ মনে করছেন, চিনের এই এক সিদ্ধান্তের কারণে প্রভাবিত হতে পারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্মীয়মান ভূগর্ভস্থ মেট্রো নেটওয়ার্ক, মহাসড়ক, দ্রুতগতির রেললাইন এবং টানেল সহ অন্যান্য অবকাঠামোর কাজ। বিশেষ করে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় চলমান টানেল প্রকল্পগুলিও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
চিন থেকে রপ্তানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ হয়ে গেল?
চিনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সে দেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হওয়া টানেল বোরিং মেশিন সহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির উপর নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণ জারি করা হচ্ছে। আগামী 18 নভেম্বর থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হবে বলেই জানানো হয়েছে বেইজিংয়ের তরফে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের রিপোর্ট বলছে, চিনের নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বা নিষেধাজ্ঞার আওতায় টানেল বোরিং মেশিনের পাশাপাশি রয়েছে নির্দিষ্ট এক্সকাভেটর, মালভূমি অঞ্চলে ব্যবহৃত বিশেষ কংক্রিট স্প্রে করার যন্ত্র এবং জলাশয় বা সমুদ্রের তলদেশ খননের কিছু সরঞ্জামও।
চিনের বাণিজ্য মন্ত্রক একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা এবং স্বার্থ রক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। যদিও TBM মেশিন সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি রপ্তানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেনি চিন। ফলে চিনের এমন পদক্ষেপে ভারতের আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো প্রকল্প, হাই-স্পিড রেল এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সরবরাহের সমস্যা তৈরি হলে স্বাভাবিকভাবেই তার প্রভাব পড়বে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের উপর।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ার পর ইংল্যান্ডকে বাণ্ডিল, ক্রিকেটে রত্ন পেল পাকিস্তান, কে এই আরাফাত মিনহাস?
উল্লেখ্য, এর আগে 2024 সালে জার্মানির তৎকালীন উপাচ্যান্সেলর রবার্ট হাবেকের সঙ্গে আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল অভিযোগ করেছিলেন, চিনে তৈরি জার্মান সংস্থা Herrenknecht-র কিছু টানেল বোরিং মেশিন ভারতে পাঠানোর ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হচ্ছিল। যদিও পরবর্তীতে 2026 সালের মার্চ মাসে সেই সব মেশিন ও যন্ত্রপাতি পেয়েছিল নয়া দিল্লি, এমনটাই দাবি করা হয়েছিল একাধিক রিপোর্টে।