‘রাতভর কেঁদেছিলাম, পাশে ছিল শুভেন্দু’ মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে মহুয়ার ভিডিও ভাইরাল

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এবার মহুয়ার (Mahua Moitra) মুখে শোনা গেল শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নামে প্রশংসা! অন ক্যামেরায় স্পষ্ট জানিতে দিলেন যে শুভেন্দু তাঁর খুব ভালো বন্ধু থাকার পাশাপাশি দুঃসময়ের সাথী ছিলেন। আর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বর্তমানে একে একে বিধায়ক, মন্ত্রী এবং সাংসদরা যখন মমতার সঙ্গ ছাড়ছেন তখন ক্রমাগত সেই বিদ্রোহী সাংসদদের নিশানা করে তীব্র কটাক্ষ করে চলেছেন মহুয়া মৈত্র। কিন্তু এবার তাঁর মুখে শোনা গেল শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বেশ কিছু মধুর বার্তা।

শুভেন্দুকে নিয়ে কী বললেন মহুয়া?

সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে জানিয়েছেন যে, “শুভেন্দু আমার খুব ভালো বন্ধু। আমরা যখন একসঙ্গে তৃণমূলে ছিলাম, তখন উনি আমায় অনেক সাহায্য করেছিলেন। আমি যখন প্রথম করিমপুরে লড়াই করেছিলাম, তখন আমার জন্য প্রচার করতে কেউ আসেননি। প্রথম মিছিল করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আজও আপনারা শুভেন্দুর সঙ্গে আমার ছবি দেখতে পাবেন। তবে শুভেন্দু এখন অন্য দলে যোগ দিয়েছে, তাই আমাদের আর কথা হয় না। তবে সে আমাকে ওই সময় যা সাহায্য করেছে তা আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না।”

ব্যক্তিগত ’কানেকশন’ রয়েছে শুভেন্দুর সঙ্গে

শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে কৃষ্ণনগরের সাংসদ আরও জানান যে, “আমার দলের পতাকার দরকার ছিল। আর সেই খবর জানা মাত্রই আমায় শুভেন্দু পতাকা পাঠাতেন। ২০১৪ সালে যখন আমার লোকসভার টিকিট পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাইনি। তখন পুরো রাত কেঁদেছিলাম। সেই সময় পাশে ছিল শুভেন্দু। তিনি বলেছিলেন, না বোন, তোমার সঙ্গে আছি আমি। শুভেন্দু বিজেপিতে চলে গেলেও একটা ব্যক্তিগত ’কানেকশন’ থেকেই যাবে।” এছাড়াও শুভেন্দু এবং বিজেপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “মমতা যে কাজটা পারেননি, সেই কাজটা একদিনেই শুভেন্দু এবং বিজেপির নেতারা করে দিয়েছেন। তাঁরা তৃণমূলের শুদ্ধিকরণ করে দিয়েছেন।”

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের নামে রাস্তার নাম রাখল তেলেঙ্গানার কংগ্রেস সরকার

সাক্ষাৎকার পর্বে মহুয়া মৈত্রকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে তবে কি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে এক হতে চলেছে কংগ্রেস? সেই বিষয়ে তিনি বলেন, “আদর্শগতভাবে আমরা সবসময় কংগ্রেসের সঙ্গেই ছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন এবং তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি কংগ্রেস থেকে আলাদা হওয়ার পর তাঁর দলকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন এবং একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তিনবার সরকার গঠন করেছিলেন। তবে টিএমসি কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে না। যা খবর রটছে তার বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। আমাদের দলের সংবিধান অনুযায়ী মমতা দিদি আজীবন চেয়ারপার্সন।”

Leave a Comment