অনন্যা সরকার, কলকাতা: যত দিন যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে যুক্তরাজ্যের (United Kingdom) ১৬-১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা। তাই সামাজিক মাধ্যম থেকে তাদের দূরে রাখতে একটি নতুন পন্থা অবলম্বন করেছে ব্রিটিশ সরকার। ঘোষণা করা হয়েছে, ১৬, ১৭ বছর বয়সী ইউজারদের জন্য রাতে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপে কারফিউ (Social Media Curfew) জারি করা হবে। রাত ১২টা বাজলেই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের ব্লক করে দেবে। কারফিউ উঠবে সকাল ৬টায়। এমনকি, এই ৬ ঘণ্টা অটো-প্লে ভিডিওর মতো অনেক ফিচারই বন্ধ থাকবে। ব্রিটিশ সরকারের বিশ্বাস এতে কিশোর-কিশোরীদের অভ্যাসের উন্নতি হবে। রাতে ফোন ঘেঁটে সময় নষ্ট না করলে তাদের ঘুমের ব্যাঘাত হবে না এবং স্কুলে গিয়ে পড়াশোনাতেও আরও ভালোভাবে মনোযোগ দিতে পারবে।
যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ
যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করেছে সরকার। গত মাসেই সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয় যে শিশুরা ১৬ বছর বয়স হলেই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারবে। তাদের সারারাত ধরে অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে পড়ে থাকা বা ‘ডুমস্ক্রোলিং’ থেকে বিরত রাখতে, সরকার এবার সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর মধ্যরাতের কারফিউ লাগু করেছে। এই ধরনের পদক্ষেপ শিশুদের উপর নেতিবাচক প্রভাব কমাতে পারে।
যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তি মন্ত্রী লিজ কেন্ডাল জানান যে, তরুণদের দৈনন্দিন জীবন উন্নত করার জন্য নতুন এই বিধিনিষেধ চালু করা হয়েছে। এই নিয়মগুলো শিশুদের প্রয়োজনীয় ঘুম সম্পূর্ণ করতে, স্কুল ও কলেজের পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে এবং পরিবার ও বন্ধুদের সাথে ‘কোয়ালিটির টাইম’ কাটাতে সাহায্য করবে। এই নিয়মগুলো এবছর সংসদে পেশ করা হবে বলে জানা গেছে। অনুমোদন পেলে এগুলো আগামী বছরের শুরু থেকেই কার্যকর হতে পারে। ব্রিটিশ প্রশাসন জানিয়েছে যে, এই আইনটি বলবৎ হওয়ার পর, তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
আরও পড়ুন; বর্ষায় ঘুরে আসুন পশ্চিমবঙ্গের এই ৫টি অফবিট ডেস্টিনেশন থেকে
শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলার কারণে যুক্তরাজ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়াকড়ি করা হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞার সমর্থনে অনেকে বলেন যে, সোশ্যাল মিডিয়া ছোটদের জন্য তৈরি করা হয়নি এবং এর ক্রমাগত ব্যবহার তাদের মধ্যে ডিপ্রেশন, ওবিসিটি ও অ্যাংজাইটির মতো সমস্যা বাড়িয়ে তুলছে। তবে সবাই যে এর সাথে সহমত এমনটা নয়। কেউ কেউ মনে করছেন যে, শুধুমাত্র নিষিদ্ধ করলে সমস্যার সমাধান হবে না। সাধারণভাবে প্রবেশাধিকার বন্ধ করলে, বাচ্চারা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশের জন্য অন্য উপায় খুঁজে বের করবে।