রাশিয়ার উপর ১০০০ ড্রোন দিয়ে ‘সবচেয়ে বড় হামলা’ চালাল ইউক্রেন

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: যুদ্ধ যেন থামছেই না। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের (Russia-Ukraine War) মধ্যেকার সংঘাত যাতে বড় আকার না নেয় সেজন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে ভারত এবং চিন। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই ভ্লাদিমির পুতিনকে দেওয়া হয়েছে প্রস্তাব। যুদ্ধ বন্ধ করতে পুতিনের সাথে আলোচনায় বসতে রাজি হয়ে গিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কিও। এমতাবস্থায়, যুদ্ধের সময় ইউক্রেনের যেসব অঞ্চলের দখল নিয়েছিল রাশিয়া, সেই সব এলাকাতেই চলছিল সংসদীয় নির্বাচন। আর সেই ভোট গ্রহণের শেষ দিনেই 1000 ড্রোন দিয়ে মস্কোর উপর দাঁতভাঙা হামলা চালালো কিয়েভ (Drone Attack)।

নির্বাচন ভঙ্গ করতেই রাশিয়ায় জোরালো হামলা ইউক্রেনের?

রাশিয়ার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, গতকাল অর্থাৎ শনিবার রাত থেকে ক্রমাগত দেশটির বিভিন্ন শহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের সেনা। ইতিমধ্যেই মস্কোর মেয়র সার্জেই সোবিয়ানিন এই হামলাকে বর্তমানসময়ের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, ইউক্রেনের এই ড্রোন হামলার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাশিয়ার বহু বাড়িঘর থেকে শুরু করে তেল শোধনাগার।

মস্কোর তরফে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতভর ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে দুজনের। আহুতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে 20 তে। আচমকা এমন হামলা নিয়ে মস্কোর মেয়র জানিয়েছেন, রাশিয়ার নির্বাচন ভঙ্গ করতেই এই হামলা করেছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। তবে তাঁর দাবি, রাশিয়ার ক্ষমতার সামনে ব্যর্থ হয়েছে শত্রুরা। কূটনৈতিক মহলের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের মাঝে ইউক্রেন সেনার এমন ভয়াবহ হামলার ফলে এবার পাল্টা জোরালো হামলা চালাতে পারে রাশিয়াও! এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি ক্রেমলিন। তবে শনিবার রাতের হামলার কথা বুক ফুলিয়ে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট!

 

আরও পড়ুন: বেলেঘাটা-আইটি সেন্টার রুটে প্রথমবার চলল পুশ ট্রলি, অরেঞ্জ লাইনে বড় মাইলফলক কলকাতা মেট্রোর

উল্লেখ, 2022 সালে শুরু হয় রাশিয়া এবং ইউক্রেনের ভয়াবহ যুদ্ধ। আর সেই সামরিক অভিযানের পর এই প্রথমবারের মতো সংসদীয় নির্বাচন আয়োজন করেছে মস্কো। ভ্লাদিমির পুতিন চাইছেন গোটা বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিতে যে, যুদ্ধের মধ্যেও কীভাবে রাশিয়ার সাধারণ জনগণ সরকার এবং সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে আছে। বলে রাখা প্রয়োজন, এর আগে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে যুদ্ধ বন্ধ করতে রাশিয়াকে সব রকম সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সেই প্রস্তাবে নাকি রাজিও হয়ে যান পুতিন।

Leave a Comment