রোজ ২০ টাকা জমিয়েই মালামাল! লাখপতি বানাচ্ছে SBI-র এই স্কিম

অনন্যা সরকার, কলকাতা: যেসব সমস্ত মধ্যবিত্ত পরিবারে বিপুল সাংসারিক খরচ সামলে ভবিষ্যতের জন্য সেভাবে কিছুই বাঁচে না, তাদের জন্য স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) নিয়ে এসেছে হর ঘর লাখপতি স্কিম (Har Ghar Lakhpati Scheme)। আপনি যদি প্রতিদিন সামান্য সঞ্চয় (Investment) করে ভবিষ্যতের জন্য একটা ভালো অঙ্কের ফান্ড গড়ে তুলতে চান, তাহলে এই স্কিমটি আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে। এটি বিশেষ করে তাঁদের  জন্য আদর্শ, যাঁরা কোনো ঝুঁকি ছাড়াই নিয়মিত সঞ্চয় করতে চান। এই স্কিমটি এসবিআই-এর রিকারিং ডিপোজিট (RD) স্কিমেরই একটি বিশেষ সংস্করণ, যা লক্ষ্য-ভিত্তিক সঞ্চয়ের কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে। আসুন তাহলে হর ঘর লক্ষপতি স্কিমের সুবিধা-অসুবিধাগুলি সম্পর্কে বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

এসবিআই-এর হর ঘর লাখপতি স্কিমের মূল লক্ষ্য 

স্টেস্ট ব্যাংকের এই স্কিমটির মূল লক্ষ্য হল প্রতি মাসে অল্প অল্প করে টাকা নিয়ে প্রত্যেক ব্যক্তিকে মেয়াদপূর্তির মধ্যে ১ লক্ষ বা তার বেশি টাকা জমাতে সাহায্যে করা। আপনিও যদি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যমে বড় অঙ্কের ফান্ড তৈরি করার আশা রাখেন, তাহলে এই স্কিমটি আপনার জন্য একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। এই বিশেষ রেকারিং ডিপোজিট (RD) স্কিমে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা করতে হয়। স্কিমের মেয়াদ ফুরোলে, নির্বাচিত টাকার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে ১ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রিটার্ন পাওয়া যাবে। যেহেতু এই স্কিমটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, এসবিআই-এর তাই গ্রাহকের জমা করা টাকা নিরাপদ থাকে এবং একটি পূর্ব-নির্ধারিত সুদের হারের উপর ভিত্তি করে রিটার্ন পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: মাত্র ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে মিলবে টাকা, নিয়ম শিথিল করল EPFO

প্রতি মাসে কত টাকা করে জমা দিতে হয়?

গ্রাহক নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ৩ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত মেয়াদের স্কিম বেছে নিতে পারেন। তাঁর বেছে নেওয়া মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে মাসিক কিস্তি নির্ধারিত হয়। দীর্ঘমেয়াদী স্কিম হলে মাসিক জমা করা টাকার পরিমাণ কম হয়,  অন্যদিকে স্বল্প মেয়াদের স্কিম বেছে নিলে মাসিক কিস্তি কিছুটা বেশি হয়। তবে সুদের হারের পরিবর্তনের কারণে মাসিক কিস্তির পরিমাণে সামান্য তারতম্য হতে পারে।

হর ঘর লাখপতি স্কিমে এসবিআই-এর সাধারণ আরডি-র মতোই ইন্টারেস্ট পাওয়া যায়, যা প্রতি ত্রৈমাসিকে চক্রবৃদ্ধি হারে গণনা করা হয়। সাধারণ গ্রাহকরা স্কিমের মেয়াদের ওপর নির্ভর করে বছরে ৬.৫০% থেকে ৬.৭৫% হারে সুদ পাবেন। তবে প্রবীণ নাগরিকদের সাধারণ গ্রাহকদের তুলনায় অতিরিক্ত ০.৫০% সুদ প্রদান করা হয়। এর ফলে তাদের মাসিক বিনিয়োগের পরিমাণ হলেও লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব হয়।

কীভাবে এই স্কিমের অধীনে অ্যাকাউন্ট খুলবেন?

এই স্কিমের অধীনে একটি অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি খুবই সহজ। আগ্রহী ব্যক্তিরা অনলাইনের মাধ্যমে অথবা এসবিআই-এর শাখায় গিয়ে এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। যদি আপনার ইতিমধ্যেই একটি এসবিআই অ্যাকাউন্ট থাকে, তাহলে সরাসরি আপনার ইয়োনো (YONO) অ্যাপ বা নেট ব্যাঙ্কিং-এ লগ ইন করুন। এরপর ডিপোজিট সেকশনে গিয়ে ই-আরডি (e-RD) বিকল্পে ক্লিক করে হর ঘর লাখপতি অপশনটি বেছে নিয়ে আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। কিম্বা পৌঁছে যান নিকটতম এসবিআই শাখায়, যেখানে আবেদনপত্র ফিলআপ করে নিমেষেই অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে। জানিয়ে রাখি, এই স্কিমের জন্য গ্রাহকের পাসপোর্ট সাইজের ছবি, আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং একটি এসবিআই সেভিংস অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন হবে।

আরও পড়ুন: অবসরের পর BCCI-র থেকে কত টাকা করে পেনশন পাবেন অজিঙ্কা রাহানে?

উল্লেখযোগ্যভাবে, স্কিম চলাকালীন যদি গ্রাহকের টাকার প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি ব্যাংকে জমা করা অর্থের ওপর ৯০ শতাংশ পর্যন্ত লোন বা ওভারড্রাফটের (OD) সুবিধা পাবেন। যদি কোনো মাসে কিস্তির টাকা সময়মতো শোধ করা না হয়, তাহলে ব্যাংক তাদের নিয়ম অনুযায়ী সামান্য পরিমানে জরিমানা আরোপ করতে পারে। আর যদি অনেক মাস ধরে কিস্তি জমা দেওয়া না হয়, তাহলে ব্যাংক এই অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিতে পারে। কোনো অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের অধীনে অর্জিত মোট সুদ ৪০,০০০ টাকা অতিক্রম করলে টিডিএস (Tax Deducted at Source) কাটা হয়। তবে, প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৫০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Leave a Comment