প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এইমুহুর্তে রাজ্য জুড়ে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বেশ সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি চলছে। জনসংযোগ বৃদ্ধিতে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে সেই নিয়ে বেশ নজর রাখছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। এদিকে এই ব্যস্ততার মাঝেই আইনের জট থেকে কিছুতেই নিস্তার পাচ্ছেন না তৃণমূল বিধায়ক তথা অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী (Soham Chakraborty)। আগেই ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে হাই কোর্টে তাঁর নামে মামলা দায়ের করেছেন অভিযোগকারী শাহিদ ইমাম। সেই সময় মামলার নোটিস পেয়েও নীরব ছিলেন সোহম। তাই এবার তিনি পেলেন সালিশির নোটিস।
৬৮ লক্ষ টাকা ঋণ নেন সোহম
রিপোর্ট মোতাবেক, ২০২১ সালে ‘মানিকজোড়’ ছবির জন্যই অভিনেতা-প্রযোজক শাহিদ ইমাম, সোহম চক্রবর্তীকে ৬৮ লক্ষ টাকা ধার দেন। কিন্তু পরে শাহিদ ওরফে ‘শুভম’ একাধিক বার পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তাতে নাকি কর্ণপাত করেননি সোহম। অভিযোগ, দুই দফায় মোট ২৫ লক্ষ টাকা তাঁকে ফেরত দিয়ে নীরব ছিলেন অভিযুক্ত অভিনেতা-বিধায়ক। তাই শেষে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্টে সোহমের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির মামলা দায়ের করেন। এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন চারু মার্কেট থানায়। পাঠানো হয় আইনি নোটিস। যদিও ঋণ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেননি সোহম। সেই সময় তিনি জানিয়েছেন, “আর্থিক সমস্যার কারণে পুরো টাকা একসঙ্গে শোধ করা সম্ভব হয়নি। তবে টাকা ফেরত দেব একাধিকবার জানিয়েছি।”
আইনি নোটিস পেলেন সোহম
মামলার আইনি নোটিস পাওয়ার পরেও দীর্ঘ সময় কেটে গিয়েছে কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো টাকা ফেরত দেয়নি সোহম চক্রবর্তী। তাই এবার নতুন করে নোটিস পেলেন তিনি। নোটিসে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, ২০২১ সালের ২৯ জুলাই শাহিদ ইমামের মধ্যে একটি বাংলা সিনেমা তৈরি নিয়ে লিখিত চুক্তি হয়। আর সেই মোতাবেক শাহিদ ইমাম ১ কোটি বিনিয়োগ করতে রাজি হন। প্রথম ধাপে শাহিদ ৬৮ লক্ষ টাকা সোহম চক্রবর্তীকে দেন তিনি। তার লিখিতও হয়। কিন্তু সেই সিনেমা পরবর্তীতে তৈরি হয়নি। সোহম কোনওভাবেই প্রযোজনায় কোনও আগ্রহ দেখাননি, স্ক্রিপ্ট চূড়ান্ত করা, সময় নির্ধারণ করা-কোনও কাজই এগোয়নি। এদিকে এই নোটিস প্রসঙ্গে সোহমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো জবাব দেননি।
আরও পড়ুন: গরমে নাজেহাল হওয়ার দিন শেষ, ১০০ এসি CNG বাস নামাল রাজ্য সরকার
প্রসঙ্গত, রাজ্যে এপ্রিল-মে মাস নাগাদ বিধানসভা নির্বাচন। এই অবস্থায় যেখানে জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে উঠে পরে লেগেছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। সেখানে দাঁড়িয়ে তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর এইরূপ ঋণ পরিশোধ না করার মত অভিযোগ নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে গোটা দল। যদিও আগেই সোহম আক্ষেপ করে জানিয়েছে যে, সামনে যেহেতু নির্বাচন আসছে তাই হয়তো পূর্বপরিকল্পিত ভাবে তাঁকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়।