আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পুরীর (Puri) প্রস্তাবিত শ্রীজগন্নাথ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Shree Jagannath International Airport) তৈরির পথে আরও এক ধাপ এগোল ওড়িশা সরকার। অবশেষে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের কাছ থেকে এই প্রকল্পটি এনভায়রনমেন্টাল ক্লিয়ারেন্স (Environmental Clearance) এবং কোস্টাল রেগুলেশন জোন (Coastal Regulation Zone clearance বা CRZ) ক্লিয়ারেন্স পেয়েছে। এই ছাড়পত্রগুলি দীর্ঘদিন ধরে বিনা অনুমোদনে আটকে থাকা প্রকল্পটিকে বাস্তবায়নের দিকে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।
যাত্রী পরিষেবা নিয়ে কী পরিকল্পনা সরকারের?
পুরীর সিপাসরুবালি এলাকায় এই গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরটির নির্মাণের কথা চলছে। প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৭১.৩৪৮ হেক্টর জমি নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৭.৮৮৭ হেক্টর জমিতে বনভূমি রয়েছে। পুরীর জগন্নাথ মন্দির থেকে বিমানবন্দরটির দূরত্ব আনুমানিক ৫ কিলোমিটার। তিনটি ধাপে বিমানবন্দরটির যাত্রী পরিষেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার।
- প্রথম পর্যায়ে বছরে প্রায় ৪৬ লক্ষ যাত্রীকে পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
- পরবর্তী পর্যায়ে সেই লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৬ লক্ষের বেশি যাত্রীতে উন্নীত করা হবে।
- শেষ ধাপে এই পরিষেবার সীমা প্রায় ১ কোটি ৬৬ লক্ষ যাত্রী পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার আগে অবশ্য এই প্রকল্পকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে বনভূমি ব্যবহার, গাছ কাটা এবং আশপাশের পরিবেশের উপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বিভিন্ন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কমিটি। Wildlife Institute of India-ও প্রকল্প এলাকার কাছাকাছি পরিযায়ী পাখির চলাচল, অলিভ রিডলি কচ্ছপের আবাসস্থল এবং চিলিকা রামসার এলাকার অবস্থান নিয়ে সতর্ক করেছিল। বিমানবন্দরের সঙ্গে পরিযায়ী পাখির সংঘর্ষ ঘটতে পারে এমন সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছিল।
এই উদ্বেগের পরেই প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট ওয়াইল্ড লাইফ ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে ক্ষতি লাঘব করার ব্যবস্থা গ্রহণের শর্ত রাখে সরকার। ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া এবং জুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলিকে দ্রুত কার্যকর করার কথাও বিবেচনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিনা টিকিটে যাত্রী ধরেই আয় ৫২ কোটি, বিরাট সাফল্য পূর্ব রেলের
এখন পরবর্তী ধাপে কীভাবে এগোয় প্রকল্প, সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় NOC পাওয়ার পর Airports Authority of India বা AAI-এর অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হবে। এরপর AAI এবং রাজ্যের পরিবহণ দফতরের সমন্বয়ে DPR তৈরির কাজ এগোবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে নির্মাণকাজ শুরুর দিকে এগোতে পারবে রাজ্য। এই বিমানবন্দরের জন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৫,৬৩১ কোটি টাকা।