প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সরকার পরিবর্তন হতেই এবার দপ্তরের মন্ত্রী-সচিবদের জন্য বড় উপহার আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জানা গিয়েছে, পুরনো গাড়ি বাতিল করে এবার নয়া মন্ত্রী-সচিবদের ব্যবহারের জন্য ১৫১টা নতুন গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিল নবান্ন (Nabanna)। যার মধ্যে থাকবে মাহিন্দ্রা স্করপিও এবং টয়োটার একাধিক মডেল। সূত্রের খবর প্রায় এক দশক পর একসঙ্গে এতগুলো গাড়ি কেনা (Nabanna new vehicle purchase) হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে মাস দেড়েকের মধ্যেই গাড়িগুলো এসে যাবে বিভিন্ন দপ্তরে।
বেহাল দশা পুরোনো গাড়িগুলোর
বিগত কয়েক বছর ধরেই মূলত ভাড়ার গাড়ি ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আধিকারিকদের আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা চলছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গাড়িগুলোর আজ অত্যন্ত বেহাল দশা। কিছু গাড়ির সিট ভাঙা, কোনোটার আবার কাজ করছে না এসি, এমনকি, গাড়িতে তেলের খরচও বাড়ছিল বেশ। সব দিক থেকেই সেগুলো কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে উঠেছিল। এমনকি যে সকল গাড়ির মালিক পুলকার হিসেবে গাড়ি ভাড়া দিতেন, তাঁরাও গাড়ির ভাড়া বৃদ্ধি করার আবেদন জানাচ্ছিলেন। তাই সব কিছু মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রী-সচিবদের জন্য নতুন গাড়ি কেনার ব্যবস্থা করল সরকার।
১৫১ টি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা সরকারের
নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই টেন্ডার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অর্থ দপ্তর থেকে ছাড়পত্র পাওয়া গিয়েছে। আপাতত ১৫১ টি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গাড়ি আসার পর কোন আধিকারিকের নামে কোন গাড়ি ইস্যু হবে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য নবান্ন, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের কাছে থাকবে। নবান্নের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের IAS আধিকারিকদের সরকারি গাড়িতে বিশেষ ধরনের পতাকা ব্যবহার করতে হবে। এবং পদমর্যাদা অনুযায়ী পতাকার নকশা ও আকৃতি আলাদা করা হবে।
আরও পড়ুন: হুমায়ুনকে ‘ঝোঁকাতে’ আজ রেজিনগরে আসছেন শুভেন্দু, বদলাবে ভোটের সমীকরণ?
নবান্নের এক আধিকারিকের কথায়, সরকারি কাজে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়ার সময় আধিকারিকদের পরিচয় ও মর্যাদা স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যেই গাড়িতে বিশেষ পতাকা লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগে রাজ্যে বিজেপি সরকার আসতেই ‘ব’ লেখা পতাকা সরিয়ে ফেলা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের উচ্চপদস্থ আমলাদের গাড়ির ড্যাশবোর্ড থেকে। তার বদলে লাগানো হয়েছে নীল রঙের পতাকায় অশোকচক্রের লোগো। এমনকি যে সকল জায়গায় তৃণমূলের আমলের তৈরি বিশ্ব বাংলার লোগো লাগানো হয়েছিল সব জায়গা থেকে সেই লোগো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।