প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গতকাল, বুধবার, আচমকাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে দেখা করলেন NCPI সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। আর এই সাক্ষাৎ পর্ব নিয়ে রীতিমত শোরগোল শুরু হয়ে গেল রাজ্য রাজনীতিতে। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা (Kakoli Meets Suvendu Adhikari) করার পর তাঁর হাতে NCPI সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ধরিয়ে দিলেন একটা কাগজও। কিন্তু সেই কাগজে আদতে কী লেখা আছে তা নিয়ে সকলের আগ্রহ বাড়তে থাকে, অবশেষে প্রকাশ্যে এল আসল তথ্য।
নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ‘নালিশ’ করলেন কাকলি
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ বুধবার NCPI সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের এক বিধায়ক ‘অপমানজনক’ পোস্ট করার জন্য নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ‘নালিশ’ জানিয়েছেন। জানা গিয়েছে ওই তৃণমূল বিধায়ক হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থাকা কালীঘাট-পন্থী বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুণাল ঘোষের একটি বিতর্কিত পোস্ট নিয়েই আপত্তি তুলেছিলেন NCPI সাংসদ। তবে ঠিক কোন পোস্ট বা বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই নালিশ জানানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট জানা যায়নি।
কী বলছেন NCPI সাংসদ?
গতকাল, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন যে, “ ফেসবুক ও টুইটারে পোস্ট করে IT সেল থেকে যে অসভ্য গালাগাল দেওয়া হচ্ছে আমাকে ও আমার পরিবারকে সেই নাম মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দিলাম। উনি যথাযত শাস্তির ব্যবস্থা করবেন আশ্বাস দিয়েছেন।” যদিও সেখানে তিনি কুণাল ঘোষের নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু সেই পোস্টের পাল্টা প্রতিক্রিয়া স্বরূপ কালীঘাট-পন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন যে, “আমি প্রচন্ড ভয়ে কাঁপছি। কেউ একটা কম্বল দেবেন? ভাবছি, কোনও পাগল যদি হঠাৎ কামড়ে দেয়!”
আরও পড়ুন: গতি পাবে গঙ্গাসাগর ও সুন্দরবনের পর্যটন, বেহালা বিমানবন্দরের জন্য জমির সার্ভে শুরু
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই বৈঠক প্রথম নয়, এর আগে গত মাসেও দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন NCPI সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। অন্যদিকে কুণাল ঘোষের আগে তৃণমূলের আরেক বর্ষীয়ান নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কাকলি। এমনকি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে লিখিত চিঠিও পাঠিয়েছিলেন তিনি, যার ফলে বাদল অধিবেশন থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল। এখন দেখার মুখ্যমন্ত্রী দোষীদের বিরুদ্ধে কী শাস্তির নিদান দেয়।