সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে চিকিৎসা পরিষেবা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে সরকার পরিবর্তন হতেই একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও বিনামূল্যে বেড মিলবে বলে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এদিকে নিউটাউনে তৈরি হচ্ছে আদানি আরোগ্য মন্দির। ২০০০ শয্যার এই হাসপাতালে দরিদ্রদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মিলবে ১০০০ বেড। আজ তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং গৌতম আদানিও (Gautam Adani), এবং বাংলার জন্য ওই সভামঞ্চ থেকে একাধিক ঘোষণা করলেন শিল্পপতি।
বাংলার জন্য একাধিক ঘোষণা গৌতম আদানির
কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে স্বাস্থ্য খাতে এবার বিনিয়োগ করবে স্বয়ং আদানি গোষ্ঠী। সেই সূত্রে নিউটাউনে ২০০০ শয্যার এই অত্যাধুনিক মানের হাসপাতাল গড়ে উঠবে, যেখানে বিনামূল্যে দরিদ্ররা পরিষেবা পাবেন। ১০০০ বেড শুধুমাত্র বরাদ্দ থাকবে গরিবদের জন্য আর বাকি ১০০০ বেড বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হবে। নিউটাউনের ৫১ একর জমিতে সেই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। ওই হাসপাতালের জন্য মোট ২৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবেন গুজরাটের শিল্পপতি।
এদিন একেবারে সাতসকালে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে দেখা যায় গৌতম আদানিকে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী এবং মেয়ে। তার পরপরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কর্মসূচিতে যোগদান করেন তিনি। এদিন গৌতম আদানি রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও বক্তব্য রাখেন। আদানি বলেন, “এটি স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং জগদীশচন্দ্র বসুর ভূমি।”
আরও পড়ুন: ‘বাংলার ডেয়ারি’র মতো তৈরি হচ্ছে রাজ্যের নিজস্ব সর্ষের তেলের ব্র্যান্ড, জানালেন খাদ্যমন্ত্রী
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে গৌতম আদানিকে বলতে শোনা যায়, “বাংলায় শিল্পের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাংলায় শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি প্রমাণ করেছেন। আপনি সত্যি ভূমিপুত্র। আপনি বাংলার ছেলে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, শিল্পের পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের জোয়ার এনেছেন।” এমনকি ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং, কুমারটুলি ঘাট এবং কলকাতার দুর্গাপুজো নিয়েও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাকে তিনি পূর্বের ‘দ্বিতীয় কর্মভূমি’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। এছাড়া আগামী দিন বাংলায় আরও বিনিয়োগের আশ্বাস দেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান।