সৌভিক মুখার্জী, বসিরহাট: জৈষ্ঠ মাস। আমের মরসুম। বাঙালির আমের (Mango) তালিকায় চেনা পরিচিত নামগুলো হিমসাগর, ল্যাংড়া কিংবা ফজলি। তবে এবার চেনা গণ্ডি বেরিয়ে বাংলার মাটিতে ফলছে বিশ্বের সব নামীদামী এবং বিরল প্রজাতির বিদেশি আম। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের (Basirhat) এক নার্সারিতে এখন মিয়াজাকি থেকে শুরু করে চিয়াংমাই এর মতো সব বিলাতি আমের ফলন ধরেছে। এমনকি এক যুবকের হাত ধরেই বসিরহাটের প্রত্যন্ত গ্রামে তৈরি হচ্ছে এই আমের একচেটিয়া বাজার।
বাগানে ফলছে সব বিদেশি আম
রিপোর্ট অনুযায়ী, শাহরুখের এই বিশেষ বাগানে বর্তমানে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০টি প্রজাতির বিদেশি এবং উচ্চমানের আম ফলন হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মিয়াজাকি, যেটি বিশ্বের সবথেকে দামি আম হিসাবে পরিচিত। আর এই জাপানি আমটি তার গাঢ় লাল রং এবং অসাধারণ স্বাদের জন্যই বিখ্যাত। তারপর রয়েছে চিয়াংমাই ও চাকাপাত, যেগুলি থাইল্যান্ডের বিশেষ জাতের আম যার আকার যেমন বিশাল, তেমনই মিষ্টি সুবাস। এছাড়াও ব্ল্যাক স্টোন এবং রেড পালমারের মতো বিরল বিদেশী আমও এই বাগানে রয়েছে।
আসলে সাধারণভাবে দেশী আমগাছ অর্থাৎ হিমসাগর, বোম্বাই বা ল্যাংড়া আমগুলিতে এক বছর ভালো ফলন হলে তার পরের বছর ফলন অনেকটাই কমে যায়। তবে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম বা চিনের এই উন্নত প্রজাতিগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এই গাছগুলো থেকে প্রায় দীর্ঘ সময় ধরে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে ফলন পাওয়া যায়, এবং বেশি পরিমাণে লাভও করা যায়।
আরও পড়ুন: বছরে মিলবে ৬০০০ টাকা, বাংলায় চালু হচ্ছে আরও এক প্রকল্প
না বললেই নয়, এই আমের বাগান জুড়ে এখন নানা রকম সব দৃশ্য। গাছে গাছে ঝুলছে নানা রঙের আম। কোথাও টকটকে লাল, আবার কোথাও কোথাও সোনালী আম নজর কাড়ছে সাধারণ দর্শকদের। শাহরুখ জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে এই আমগুলির গুণগত মান এবং স্বাদের কারণে এগুলির দাম একেবারে আকাশছোঁয়া। যার ফলে ভারতের বাজারেও এই আম এবং তার কলমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।