সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কর্পোরেট সেক্টর এবং শেয়ার বাজারে বিরাট ধাক্কা। দেশের বৃহত্তম সোনা পরিশোধন এবং গয়না প্রস্তুতকারী সংস্থা রাজেশ এক্সপোর্টার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে আনুমানিক ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতি এবং কারচুপির অভিযোগ সামনে এনেছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিরাট আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে দেশের বৃহত্তম বিমা সংস্থা এলআইসি (Life Insurance Corporation), যারা এই সংস্থার প্রধান শেয়ার হোল্ডার।
বিপুল পরিমাণ রাজস্বের কারচুপি
সেবির অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত রিপোর্টে যে তথ্য প্রকাশ পেয়েছে তা এক কথায় চমকে দেওয়ার মতো। তাদের দাবি, ২০২০-২১ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ মধ্যে রাজেস এক্সপোর্টার্স তাদের সম্মিলিত রাজস্বের ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার ভুল তথ্য পেশ করেছে। আর এই বিশাল অংক ওই সময় কোম্পানির দেখানো মোট রাজস্বের প্রায় ৯০ শতাংশের সমান। তদন্তে দেখা গিয়েছে, কোম্পানির মোট আয়ের ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশ বিদেশি সংস্থা থেকেই আসত।
এদিকে সোনা রিফাইনিং বা প্রক্রিয়াকরণের প্রকৃত আয়ের বদলে সম্পূর্ণ সোনার ট্রানজেকশন ভ্যালু বা মোট আদান-প্রদান মূল্য সরাসরি কোম্পানি রাজস্ব হিসেবে দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদেরকে বিভ্রান্ত করিয়েছে সংস্থা এমনটাই খবর। এমনকি সপেক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাতেও ব্যর্থ হয়েছে তারা। আর সিভিল কোটার বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য এবং কোম্পানির গাফিলতি পরীক্ষা করার জন্য জাতীয় আর্থিক রিপোর্টিং কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বর্ষার আগমন কেরলে, বাংলায় কবে ঢুকছে?
মাথায় হাত LIC-র
উল্লেখ্য, রাজস্বের এই চরম সংকটে সবথেকে বড় আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে লাইফ ইন্সুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া। দেশের এই বৃহত্তম প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সংস্থার কাছে রাজেশ এক্সপোর্টার্স লিমিটেডের আনুমানিক ১০% শেয়ার রয়েছে। আর শেয়ারের দর পতন হওয়ায় এলআইসির বিনিয়োগের মূল্য একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। এমনকি ২০২৬ সালের শুরুতে যেখানে রাজেশ এক্সপোর্টার্স লিমিটেডে এলআইসির হোল্ডিং মূল্য ছিল ৮৩৮ কোটি টাকা, সেখান এখন তা দাঁড়িয়েছে ৪৫৬ কোটি টাকায়।