=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.

১৮ বছরেই চলে যায় বাবা, ভারতের হয়ে এশিয়ান গেমসে পদক জিতলেন ‘UBER ক্যাব চালক’

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: কাঁধে ছিল সংসার চালানোর দায়িত্ব। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই দিল্লির রাস্তায় একটা সময় UBER ক্যাব (UBER Drivers) চালাতেন। সেই সালমান খানই আজ এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে পদক জিতলেন। বৃহস্পতিবার, এশিয়ান গেমসে (Asian Games) 2026 এর রোয়িংয়ে পুরুষদের ডাবল স্কালস ইভেন্টে সতনাম সিংয়ের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের জন্য ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা সালমান। ক্যাব চালকের পদক জয়ে উচ্ছ্বসিত যোগীরাজ্যের আমেঠির পাড়া-প্রতিবেশীরা। জানা গিয়েছে, এই ভারতীয় জুটি ফাইনালে 6 মিনিট 14 সেকেন্ডেরও কম সময়ে তৃতীয় স্থানে নিজেদের লড়াই শেষ করেছিলেন।

দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন ‘ক্যাব চালক’

আমেঠির পুরো ঢিংগাই গ্রামের বাসিন্দা সালমান চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড়। ফলে পরিবারের দায়িত্বটাও তাঁর কাঁধেই বর্তায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সালমানের বাবা মহম্মদ কাসিম খান একটা সময় ট্রাকের বডি তৈরি করতেন। সালমানের বয়স যখন 18 ছুঁয়েছে, ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় বাবার। তারপরেই ছোট ভাই বোনেদের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি।

জানা গিয়েছে, একেবারে ছোট থেকেই ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার স্বপ্ন ছিল সালমানের। দেশের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা চিন্তা করে শেষ পর্যন্ত অল্প বয়সেই দিল্লির রাস্তায় UBER ক্যাব চালানো শুরু করেন সালমান। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দিয়ে যেটুকু যা আয় করতেন তা দিয়েই পরিবারের বাকিদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করতেন তিনি। তবে কঠোর পরিশ্রম যে বিফলে যায় না তার প্রমাণ পেলেন সালমান।

এক বন্ধুর পরামর্শে ফের ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন উত্তরপ্রদেশের ওই তরুণ। প্রায় চার মাস প্রস্তুতি নেওয়ার পর চাকরির জন্য লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি শারীরিক পরীক্ষা দিয়ে তাতে পাস করেন তিনি। পরবর্তীতে 2018 সালের 25 সেপ্টেম্বর পুনে বম্বে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপে যোগ দেন সালমান। তবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পরেই সালমানের জীবনে আগমন ঘটেছিল নতুন অধ্যায়ের। রোয়িংয়ের প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। সালমানের শারীরিক সক্ষমতা দেখে তাঁকে কোচ সত্যবান, সতীশ সিরাট এবং প্রভাত মিশ্র তাঁকে রোয়িংয়ের জন্য উৎসাহ যুগিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: “ভারতের কাছ থেকে কিছু শেখা উচিত!” টিম ইন্ডিয়ার প্রশংসা পাকিস্তানের প্রধান কোচের

জানা গিয়েছে, কোচেদের কথা শুনেই শেষ পর্যন্ত ময়দানে নেমে পড়েন সালমান। নিজের সর্বস্ব দিয়ে শুরু করেন রোয়িংয়ের প্রস্তুতি। পরবর্তীতে প্রথম ইন্টার-সেন্টার রেগাটাতেই রুপোর পদক জেতায় আত্মবিশ্বাস বাড়ে উত্তর প্রদেশের এই ছেলের। এরপর থেকে একের পর এক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের পরিচয় গড়ে তোলেন তিনি। শেষমেষ সালমানের পরিশ্রমের ফল মিলল এশিয়ান গেমসে। এই মঞ্চে সতনামের সাথে জুটি বেঁধে পুরুষদের ডাবল স্কালসে 1500 মিটার পর্যন্ত দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে গিয়ে তিন নম্বরে শেষ করেন সালমানরা। আর তাতেই দেশের ঘরে এল ব্রোঞ্জের পদ। আর সেটা আনলেন এক সময়কার UBER ক্যাব চালক!

Leave a Comment