সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে সরকারের পালাবদল হতেই গতি পাচ্ছে শিল্প। সিঙ্গুরে ফের টাটা বিনিয়োগ করবে এ কথা নিজেই জানিয়েছেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। এমনকি ইতিমধ্যেই আমূল থেকে শুরু করে লাক্স কোজির মতো কোম্পানি বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে বাংলায়। সেই সূত্র ধরেই থাইল্যান্ডের কোম্পানির সঙ্গে একজোট হয়ে বাংলায় ই-স্কুটার কারখানা (E-scooter Factory) খুলতে চলেছে কলকাতারই এক সংস্থা। এমনকি মোট ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
বাংলায় খুলছে ই-স্কুটার কারখানা
বুধবার অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, হাওড়ার সাঁকরাইলে এই ই-স্কুটার কারখানা তৈরি হবে। এটি পশ্চিমবঙ্গের জন্য হতে চলেছে এক বিরাট বড় মাইলফলক। অর্থমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী, এই কারখানা স্থাপিত হলে কয়েক হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, এবং বাংলার শিল্পে আরও গতি আসবে। এমনকি এর জন্য রাজ্য সরকার সর্বত্রভাবে সহায়তা করবে বলেও জানানো হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এই বিনিয়োগের আওতায় থাইল্যান্ডের সংস্থা আসারা ইলেকট্রিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি থেকে শুরু করে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং কাঁচামাল সরবরাহ করবে। অন্যদিকে কলকাতা ভিত্তিক সংস্থা মিয়ারস্টোন ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড দক্ষ শ্রমিক ও কর্মী নিয়োগ করবে। পাশাপাশি বিক্রি, প্রচার এবং বাজারজাত করার মতো দায়িত্ব থাকবে এই সংস্থার হাতে।
বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, সাঁকরাইলের এই কারখানাটিতে একেবারে নতুন প্রজন্মের ই-স্কুটার তৈরি হবে। এমনকি সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিদেশেও সেই স্কুটার রফতানি করা হবে। এতে রাজ্যের শিল্পে আরও গতি আসবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি এই কারখানাকে ঘিরে ই-স্কুটারের পার্টস সরবরাহ থেকে শুরু করে সার্ভিস সেন্টার এবং ডিলারশিপের মতো পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। আর যদি পরিকল্পনামাফিক এই কারখানা গড়ে ওঠে, তাহলে এখান থেকেই কয়েক হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে এবং রাজ্যের বেকারত্ব অনেকটাই দূর হবে।
আরও পড়ুন: এবার আউটডোরে চিকিৎসা করাতেও লাগবে আধার কার্ড, নয়া নিয়ম রাজ্যের হাসপাতালে
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই কারখানা গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার সব সময় সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং এমনিতেই ইলেকট্রিক গাড়ির উপর জোর দিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই কলকাতার রাস্তায় সিএনজি চালিত এবং ইলেকট্রিক বাস পরিষেবায় নেমেছে। এমনকি কারখানার প্রসঙ্গে পরিবহন মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, “পরিবেশবান্ধব জ্বালানির উপর এমনিতেই আমরা জোর দিচ্ছি। সেক্ষেত্রে এই ই-স্কুটার কারখানা হতে পারে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বড় মাইলফলক।”