সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বদলে যাবে নাগাল্যান্ড থেকে অসম যোগাযোগের রুট (Nagaland Assam Road)। পাশে ঘন বাঁশবন আর মাঝখান দিয়ে ছুটে চলা মসৃণ রাস্তা, উত্তর ভারতের দুর্গম অঞ্চলের দৃশ্য যেন এখন আর স্বপ্ন নয়। দীর্ঘদিনের অবসান ঘটিয়ে নাগাল্যান্ডের মককচুং জেলায় নতুন রাস্তা এবং সেতু তৈরি হতে চলেছে। যার ফলে যেখানে আগে ২৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন তা মাত্র ৩৫ মিনিট লাগবে। নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে নাগাল্যান্ড থেকে অসাম যাতায়াত এবার আরও অনেক সহজ হবে। এমনকি শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের সুবিধা নয়, বরং এর ফলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও গতি আসবে।
পাহাড়ি দুর্গম পথ ছিল মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা
আসলে নাগাল্যান্ডের মককচুং একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর। এখান থেকে টুলি হয়ে অসমের দিকে যাওয়ার রাস্তা বহুদিন ধরেই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সরু, ভাঙাচোরা পাহাড়ি রাস্তা আর বর্ষার সময় কাদামাটি এবং ধসের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিন সমস্যার মুখে পড়তে হত। অথচ এই রাস্তার উপর নির্ভরশীল ছিল কয়েক হাজার হাজার মানুষ। নাগাল্যান্ড এবং অসমের মধ্যে যোগাযোগের জন্য এই পথ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয় উত্তর পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রক।
রাস্তা উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আনুমানিক ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। আর সেই অর্থে তৈরি করা হয়েছে ২৬ কিলোমিটার নতুন এবং চওড়া রাস্তা, তিনটি কংক্রিটের ব্রিজ, উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা এবং ধস প্রতিরোধের ব্যবস্থা। এমনকি নতুন রাস্তার ফলে পাহাড়ি যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক নিরাপদ এবং আরও দ্রুত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইতিহাস গড়বেন বৈভব! কোথায় দেখবেন ভারত বনাম আয়ারল্যান্ড সিরিজ?
সবথেকে বড় ব্যাপার, আগে এই রাস্তায় গাড়ির গতি অনেক কম ছিল। অনেক জায়গায় ঘণ্টায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে হত গাড়িগুলিকে। তবে নতুন রাস্তা তৈরি হওয়ায় সেই গতি বেড়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হয়েছে। যার ফলে মককচুং থেকে টুলি বা আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। এমনকি এই প্রকল্পের ফলে মককচুং এর সঙ্গে একাধিক এলাকা সরাসরি যুক্ত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে মেরাংকং, আসংমা, কিলেংমেন, খানিমো, লংজাং, লংফা। প্রশাসনের মতে, এই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা প্রায় ২ লক্ষ ১৩ হাজার মানুষ পাবেন। এমনকি কৃষিপণ্য, ছোট ব্যবসা বা অন্যান্য খাতেও আসবে নতুন সুযোগ।