আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: রাজ্য সরকারের (State Government) কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য বড় ঘোষণা। মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) এবং মহার্ঘ ত্রাণ (Dearness Relief) ৩৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। ঘোষণায় বলা হয়েছে, বর্ধিত DA অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে দেওয়া হবে, যা নভেম্বরে মিলবে। অন্যদিকে, পেনশনভোগীরা নভেম্বর মাসের পেনশনের সঙ্গে বর্ধিত DR পাবেন।
কারা কারা পাবেন এই সুবিধা?
কেরালা সরকারের অর্থ দফতর ১৭ অক্টোবর এই নির্দেশ জারি করেছে। রাজ্য সরকারি কর্মী, শিক্ষক, সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের কর্মী, বেসরকারি কলেজ ও পলিটেকনিকের কর্মী, পূর্ণকালীন অস্থায়ী কর্মী এবং স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থার কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন। রাজ্য সরকারি পরিষেবার পেনশনভোগী, পারিবারিক পেনশনভোগী, এক্স-গ্রেশিয়া পেনশনভোগী এবং এক্স-গ্রেশিয়া পারিবারিক পেনশনভোগীরাও বর্ধিত DR পাবেন। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে পার্ট টাইম শিক্ষক, পার্ট টাইম অস্থায়ী কর্মী এবং ফুল টাইম পেনশনভোগীরাও বর্ধিত হারের সুবিধা পাবেন।
পুরনো বেতন কাঠামোয় DA-র হার কত?
যে সরকারি কর্মীরা এখনও সংশোধিত বেতন কাঠামোয় আসেননি, তাঁদের জন্যও DA-র নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৬ সালের বেতন সংশোধনের আওতায় থাকা কর্মীদের DA হবে ৭৫ শতাংশ। ২০১১ সালের বেতন সংশোধনের ক্ষেত্রে এই হার ২৩৫ শতাংশ, ২০০৬ সালের কাঠামোয় ৪৭৫ শতাংশ এবং ১৯৯৮ সালের কাঠামোয় ৫৩৪ শতাংশ হবে। সংশ্লিষ্ট পেনশন সংশোধন নির্দেশের আওতায় থাকা পেনশনভোগীদের DR-ও একই হারে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি সংস্থা ও অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কী নিয়ম?
রাজ্য সরকারের DA ও DR কাঠামো অনুসরণকারী সরকারি সংস্থা, বিধিবদ্ধ কর্পোরেশন, স্বশাসিত সংস্থা, বোর্ড এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও পেনশনভোগীরাও নির্দিষ্ট শর্তে বর্ধিত হারের সুবিধা পেতে পারেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরিচালন পর্ষদ বা কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত ব্যয় বহনের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নিজেদের তহবিল থেকে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে অক্ষম সংস্থাগুলিকে আগের থেকে সরকারি অনুমতি নিতে হবে। তবে কোনও সংস্থার বেতন বা পেনশন খরচের ৯০ শতাংশের বেশি সরকারি অনুদান থেকে মেটানো হলে, পরিচালন পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে আগাম সরকারি অনুমতি ছাড়াই বর্ধিত হার চালু করা যাবে।
আরও পড়ুন: আরামবাগে তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগকে ঘিরে বিক্ষোভ, ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, মুখ খুলল বিজেপি
বকেয়া নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। জানানো হয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বকেয়া মেটানোর পদ্ধতি নিয়ে আলাদাভাবে সরকারি নির্দেশ প্রকাশ করা হবে। বর্ধিত মাসিক ভাতা পাওয়ার সঙ্গে বকেয়া হাতে পাওয়ার বিষয়টি এক নয়। বকেয়া কবে এবং কীভাবে দেওয়া হবে, তা পরবর্তী নির্দেশে স্পষ্ট হবে। ততদিন ধৈর্য রেখে অপেক্ষা করতে হবে।