আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বর্তমানে শেয়ার বাজারের ওঠানামার ঝুঁকি নেওয়ার বদলে অনেকেই ফিক্সড ডিপোজিট (Fixed Deposit) বা FD-কেই বেছে নেন। এফডি-তে নির্ধারিত সময়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা রেখে আগে থেকেই জানা সুদের হারে সেই টাকা ফেরত পাওয়া যায়। তাই এই ধরনের বিনিয়োগ মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য। শেয়ার মার্কেটের মতন ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। এবার ব্যাঙ্ক অফ বরোদা নির্মিত ৪৪৪ দিনের FD-তেও গ্রাহকদের জন্য নির্দিষ্ট সুদের হার রয়েছে। সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এই FD-তে বার্ষিক ৬.৪৫ শতাংশ সুদ পাওয়া যায়। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, এই স্কিমে ৩ লাখ টাকা রাখলে মেয়াদ শেষে কত টাকা পাওয়া যেতে পারে?
৩ লাখ টাকার FD-তে কত হবে রিটার্ন?
ধরা যাক, কোনও সাধারণ গ্রাহক ৪৪৪ দিনের জন্য ৩ লাখ টাকা FD-তে জমা করলেন। ৬.৪৫ শতাংশ বার্ষিক সুদের হার হলে, এই সময়ের জন্য সুদের পরিমাণ আনুমানিক ২৪ হাজার থেকে ২৪,৩০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ আসল ৩ লাখ টাকার সঙ্গে সুদ যোগ হয়ে মেয়াদ শেষে প্রায় ৩.২৪ লাখ থেকে ৩.২৫ লাখ-এর কাছাকাছি টাকা পাওয়া যেতে পারে। তবে ব্যাঙ্কের প্রযোজ্য সুদ গণনার নিয়ম অনুযায়ী টাকার অংকে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
এই FD-তে প্রবীণ গ্রাহকদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুদের সুবিধা রয়েছে। যদি বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি হয় অর্থাৎ সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সুদের হার ৬.৯৫ শতাংশ। আবার ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সি অতি প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে তা ৭.০৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে সেই ৩ লাখ টাকা জমা করলেও বয়স অনুযায়ী সুদের অঙ্ক এবং ম্যাচিওরিটির মোট টাকায় পার্থক্যটা কিন্তু চোখে পড়ার মতো। এই FD-তে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত জমা রাখার সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থী কে? জানিয়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা
তবে FD থেকে পাওয়া সুদের পুরো অংশটাই যে হাতে আসবে, এমনটা কিন্তু নয়। প্রযোজ্য আয়কর নিয়ম অনুযায়ী সুদের উপর করের প্রভাব থাকতে পারে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক TDS-ও কেটে নিতে পারে। তাই FD করার আগে শুধু সুদের হার দেখলেই হবে না, তার পাশাপাশি মেয়াদ, ম্যাচিওরিটি অঙ্ক এবং প্রযোজ্য করের বিষয়গুলিও ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।