অনন্যা সরকার, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ভারতমালা পরিযোজনা’ (Bharatmala Pariyojana)-র আওতায় তৈরি হতে চলেছে গোরক্ষপুর-শিলিগুড়ি (Gorakhpur-Siliguri Expressway) এক্সপ্রেসওয়ে, যা উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে পরিবহন ব্যবস্থায় আনতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। ৩৭,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই চার-লেনের ‘অ্যাক্সেস-কন্ট্রোলড’ গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের সাথে এরাজ্যের শিলিগুড়িকে সংযুক্ত করবে। ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI)-এর অধীনস্থ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের কিছু অঞ্চলে সড়ক তৈরির জন্য জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের কাজ প্রায় শেষের পথে। এছাড়া নির্মাণকাজের জন্য টেন্ডারের ডাকার প্রক্রিয়াও চলছে।
উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গকে একসুতোয় বাঁধবে এই এক্সপ্রেসওয়ে
৫১৯.৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ গোরক্ষপুর-শিলিগুড়ি এক্সপ্রেসওয়েটি গোরক্ষপুরের কাছে ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক (NH-27)-এর জগদীশপুর থেকে শুরু হবে এবং বিহারে প্রবেশ করার আগে কুশিনগরের তামকুহি রাজ-এর মধ্য যাবে। এই করিডোরের প্রায় ৮৪.৩ কিলোমিটার অংশ উত্তরপ্রদেশে, ৪১৬ কিলোমিটার বিহার এবং প্রায় ১৯ কিলোমিটার পশ্চিমবঙ্গে পড়েছে। এই সড়কটি পূর্ব চম্পারণ, পশ্চিম চম্পারণ, শিওহর, সীতামঢ়ি, মধুবনী, সুপৌল, আরারিয়া ও কিষাণগঞ্জের মধ্য দিয়ে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলায় প্রবেশ করে দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ির কাছে ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক গিয়ে মিশবে।
আরও পড়ুন: প্রকাশ্যে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’-র বিজ্ঞপ্তি, এরা করতে পারবেন না আবেদন
নির্মীয়মান এই এক্সপ্রেসওয়েটি যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে, আগ্রা-লখনউ এক্সপ্রেসওয়ে, পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ে এবং গোরক্ষপুর লিঙ্ক এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি দ্রুতগতির নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক তৈরি করবে। এর ফলে দিল্লি ও শিলিগুড়ির মধ্যে দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার কমে যাবে এবং আশা করা যায় যাত্রার সময়ও ২৪-২৮ ঘণ্টা থেকে কমে ১৫-১৬ ঘণ্টায় নেমে আসবে। এছাড়া, গোরক্ষপুর থেকে শিলিগুড়ির যাত্রাপথের দূরত্বও প্রায় ৬৪০ কিলোমিটার থেকে কমে ৫২০ কিলোমিটারে দাঁড়াবে, ফলে ৬ ঘণ্টার মধ্যেই গাড়িতে এই দূরত্ব অতিক্রম করা যাবে।
এই এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে উত্তর প্রদেশ, বিহাররের সাথে পশ্চিমবঙ্গ সহ আসাম, মেঘালয়, মণিপুর ও ত্রিপুরার মতো উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির সংযোগ আরও উন্নত হবে। এছাড়া, ভারত-নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এটি আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়।
আরও পড়ুন: রাজ্যে আবার চালু হবে মর্নিং স্কুল? বড় ইঙ্গিত সরকারের
প্রজেক্ট এখন কোন পর্যায়ে?
গোরক্ষপুর-শিলিগুড়ি এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বিস্তারিত রিপোর্ট (DPR) তৈরির কাজ শেষ হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত ছাড়পত্র সংগ্রহ করা এবং টেন্ডার ডাকার প্রক্রিয়াও বর্তমানে জোরকদমে চলছে। ‘ভারতমালা পরিযোজনা’র দ্বিতীয় পর্যায়ের অধীনে অনুমোদিত এই ‘অ্যাক্সেস-কন্ট্রোলড’ এক্সপ্রেসওয়েতে শুধুই দ্রুতগতির যানবাহন চলবে, এতে বাইক বা তিন চাকার যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। আগামী বছর থেকে পর্যায়ক্রমে এই করিডোর চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।