সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ৯ মাস অতিক্রান্ত, এখনও বহু মানুষ বকেয়া (DA Arrears) টাকা পাননি। কয়েক হাজার কর্মরত এবং পেনশনভোগী রয়েছেন যারা প্রতিশ্রুতি মতো তাঁদের হকের টাকা পাননি। সরকার কবে সেই টাকা রিলিজ করবে? সে বিষয়েও এখনও অবধি কিছু জানা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে অপেক্ষা এবং ক্ষোভ বাড়ছে বাংলার সরকারি কর্মীদের। এর পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে পঞ্চম বেতন পে কমিশনের আওতায় বাংলার ডিএ মামলা উঠলেও সুরাহা হচ্ছে না কিছু। ফলে একটা করে শুনানি হচ্ছে আর হতাশ হচ্ছেন কর্মীরা। যাইহোক, এখন এই বিষয়ে একটি চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান তুলে ধরলেন ডিএ মামলাকারী মলয় মুখোপাধ্যায়।
এখনও ৯৬ হাজারের বেশি কর্মচারী ও পেনশনভোগী টাকা পাননি
মলয় মুখোপাধ্যায় (Malay Mukherjee) ফেসবুকে লেখেন, ‘ইন্দু মালহোত্রা কমিটিকে দেওয়া সরকারের রিপোর্ট বলে দেয়, ৯ মাস অতিক্রান্ত এখনো সকল কর্মচারি, বিশেষ করে কেএমসি এলাকার ব্যাঙ্ক থেকে প্রাপ্ত অনেকেই আজ ও বকেয়া ডিএ পায়নি। ০৩.১১.২৬-এ সুপ্রিম কোর্টে সরকারকে এই প্রশ্ন শুনতে হয়েছে। আমরা তার আগেই সংখ্যাটা সর্বোচ্চ আদালতে জানিয়ে রেখেছিলাম।’
তিনি আরও লেখেন, ‘পরিসংখ্যান বলে বকেয়ার লক্ষ্যমাত্রা কর্মচারী ও পেনশনভোগী হলো ৭,৫২,৬৩১ জন। মোট লক্ষ্যমাত্রার অর্থ: ৭,৪৫৮.৪২ কোটি টাকা, অর্থ পেয়েছেন ৬,৫৬,৩৯৭ জন। এখনও বকেয়া পাননি কর্মরত ও প্রাক্তন কর্মচারীর সংখ্যা ১৭,১৭০ জন। পেনশনভোগী ও পরিবার পেনশনভোগীর সংখ্যা ৭৯,০৬৪ জন। কেএমসি এলাকার পেনশনারের সংখ্যা মোট ৪১, ৯৭৭ জন। দেওয়া হয়েছে ২৫, ৯৬৬ জনকে, এখনো বাকি ১৬,০১১ জন।’ এত বিপুল পরিমাণে মানুষের বকেয়া সরকার কবে মেটাবে এখন তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে।
আরও পড়ুন: ১৫ ডিসেম্বর থেকে গাড়ির ইনস্যুরেন্সে আমূল বদল, চাপানো যাবে না অতিরিক্ত কভার
পরবর্তী ডিএ মামলার শুনানি কবে
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের মহার্ঘ ভাতামামলার কমপ্লায়েন্স শুনানিতে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মী ও পেনশনারদের বঞ্চনার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরলেন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের আইনজীবীরা। শুনানিতে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম, করুণা নন্দী, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে) এবং অন্য এক আইনজীবী এই বিষয় নিয়ে আদালতে বক্তব্য পেশ করেন। শুনানিতে মূলত গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বঞ্চনা এবং মালহোত্রা কমিটির কাজের পদ্ধতি নিয়েই আলোচনা হয়।
শেষে বিচারপতি জানান, ১৪ ডিসেম্বরের বৈঠকের পর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে ২৯ জানুয়ারি ২০২৭। ফলে DA মামলার পরবর্তী অগ্রগতির জন্য কর্মচারী ও পেনশনারদের আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। তবে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া এবং মালহোত্রা কমিটির ভূমিকা নিয়ে এদিনের শুনানিতে আইনজীবীদের সম্মিলিত বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।