অনন্যা সরকার, কলকাতা: রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের (Reliance Industries) চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির (Mukesh Ambani) কনিষ্ঠ পুত্র অনন্ত আম্বানি (Anant Ambani) তাঁর প্রাণীদের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও আধ্যাত্মিক দিক তুলে ধরেছেন। অনন্ত জানান, বর্তমানে তিনি প্রায় ৯ লক্ষ গরুর দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হলো, এই গরুগুলোর মধ্যে প্রায় ৭ লক্ষ গরুই দুধ উৎপাদনে অক্ষম। তিনি এই গরুগুলোর খাবার থেকে চিকিৎসা – সমস্ত কিছুর ওপর নজর রাখেন। অনন্ত আম্বানির এই নিঃস্বার্থ পশুপ্রেমের কথা জানার পর, বহু মানুষ তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
৯ লক্ষ গরুর সেবা করেন অনন্ত
সাধারণ দুধের ফার্মগুলিতে যে গরুগুলো আর দুধ দিতে পারে, বা যাদের উৎপাদন ক্ষমতা কমে এসেছে, সেগুলোকে প্রায়শই বোঝা হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে অনন্ত আম্বানির ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। বাণিজ্যিক লাভ বা দুগ্ধ ব্যবসার ঊর্ধ্বে গিয়ে তিনি সনাতন ধর্মের ‘জীবসেবা’ ও ‘গোসেবা’-র মতো প্রাচীন ঐতিহ্যকে নিজের জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বানিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনন্ত জানান যে, তাঁর কর্মকাণ্ড কেবল গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত প্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘ভান্তারা’ (Vantara)-র মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তিনি লক্ষাধিক গরুর জন্য একটি নির্দিষ্ট দল ও ১০০টিরও বেশি বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনা করেন, যার মাধ্যমে ভারতের আটটি রাজ্য থেকে অসুস্থ, পরিত্যক্ত বা জবাইয়ের জন্য নিয়ে যাওয়া গরুগুলোকে উদ্ধার করা হয়। এমনকি যেসব রাজ্যে গরু জবাই আইনত বৈধ, সেসব রাজ্যেও তাঁর দল সক্রিয় রয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত তাঁরা প্রায় ৫০ হাজার গরুকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছেন বলে জানান অনন্ত আম্বানি।
এছাড়াও অনন্ত আম্বানি বলেন যে, প্রাণী কল্যাণ ও গো-সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাজ তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। লোকদেখানো নয়, প্রাণীদের প্রতি তাঁর এই ভালবাসা ও সেবা রোজকার রুটিনের অংশ। তিনি জানান, তাঁর নিজের বাড়িতে আলাদা করে ছয়টি গরু পালন করা হয় এবং প্রতিদিন বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে পরম মমতায় সেগুলোর গায়ে মালিশ করে দেন তিনি।
অনন্ত আম্বানির এই বিশাল গোসেবার কার্যক্রম প্রমাণ করে যে, প্রাণীদের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা ও মমতা কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল নয়। দুধ না দেওয়া ৭ লক্ষ গরুকে আশ্রয় ও চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে অনন্ত আধুনিক যুগে প্রাণী কল্যাণের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।