বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে চান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump On Greenland)। গতকালই সে কথা জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প খুব পরিষ্কারভাবে বলেছেন, “ওই দ্বীপটিতে চিন এবং রাশিয়ার দখল রোধ করতেই আমেরিকা গ্রিনল্যান্ডে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করবে। মানুষ পছন্দ করুক বা না করুক, আমরা গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কে বড় কিছু একটা করতে যাচ্ছি।” এদিন গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার প্রভাব বিস্তার কেন গুরুত্বপূর্ণ সে কথা বোঝানোর পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড কীভাবে ডেনমার্কের অংশ হয়ে উঠল তারও ব্যাখ্যা দেন তিনি।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বড় দাবি করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট
শুক্রবার, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক প্রশ্নের উত্তরে জানান, “প্রত্যেক দেশের মালিকানা থাকতে হয়। মালিকানা থাকলে আপনি তার সুরক্ষা দেবেন, ইজারা থাকলে নয়। গ্রিনল্যান্ডকে আমাদের রক্ষা করতেই হবে। সেটা সহজ উপায়ে হোক কিংবা কঠিন, আমরা এটা করেই ছাড়বো।” ট্রাম্প এদিন গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে এও বলেন, “ওই দ্বীপে আমেরিকা প্রভাব বিস্তার না করলে চিন এবং রাশিয়া সেখানে তাদের দখল জমাবে। মানুষ পছন্দ করুক চাই না করুক আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বড় কিছু করতে চলেছি।”
ট্রাম্প নিজে বিশ্বাস করেন, যদি আমেরিকা এই মুহূর্ত কোনও পদক্ষেপ না নেয় সেক্ষেত্রে বেজিং অথবা মস্কো গ্রিনল্যান্ডে আধিপত্য বিস্তার করেই ছাড়বে।” ট্রাম্পের কথায়, “চিন বা রাশিয়া আমরা কখনই প্রতিবেশী হতে চাই না। আমি এ ব্যাপারে সহজ উপায়ে চুক্তি করতে চাই। যদি সেটা না হয় তবে কঠিন পথ অবলম্বন করব।” আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বরাবরই বলে এসেছেন, গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিন প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প দাবি করেন “ওই অঞ্চল ঘিরে রুশ এবং চিনা জাহাজ মোতায়েন করা হচ্ছে।”
কীভাবে ডেনমার্কের অংশ হয়ে উঠলো গ্রিনল্যান্ড?
ডোনাল্ড ট্রাম্প একেবারে শুরু থেকেই, গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের মালিকানা প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। সম্প্রতি ট্রাম্প বুঝিয়েছেন, তিনি ডেনমার্ককে অপছন্দ করেন না। তবে 500 বছর আগে একটি নৌকায় চেপে যদি কোনও নাবিক একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছন এবং সেখানে বসবাস করতে শুরু করেন তাহলেই তিনি ওই জমির মালিক হয়ে যাবেন না। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা প্রয়োজন, গ্রিনল্যান্ডে প্রথমবারের মতো মানুষের পদধূলি পড়েছিল 4000-5000 বছর আগে। জানা যায়, সেই সময় মনুষ্য জাতির একদল সদস্য সমুদ্রপথে ওই দ্বীপে পৌঁছেছিলেন।
অবশ্যই পড়ুন: ভারত থেকে সরছে না মুস্তাফিজুরদের ম্যাচ! BCB-র অভিযোগকে পাত্তাই দিচ্ছে না ICC
বলাই বাহুল্য, দশম শতাব্দীর একেবারে শেষের দিকে প্রথমবারের মতো গ্রিনল্যান্ডে পা রেখেছিলেন এক ডেনমার্ক নিবাসী। জানা যায়, নর্স ভাইকিং নামক ওই নাবিক নৌকা নিয়ে গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে বসতি নির্মাণ করেছিলেন। আইসল্যান্ডে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। না বললেই নয়, নর্স কয়েক শতাব্দী ধরে গ্রিনল্যান্ডেই বসবাস করেছিলেন। তবে অবাক করা বিষয়, 1500 শতাব্দী নাগাদ তাদের জনসংখ্যা প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়। যদিও পরবর্তীতে এর কারণ জানা যায়নি।
অবশ্যই পড়ুন: দেউলিয়া হওয়ার পথে ইরান? ভারতের ১০০ টাকা সে দেশে কত জানলে ভিমড়ি খাবেন
এই ঘটনার প্রায় 200 বছর পর 1721 সালে একজন নরওয়েজিয়ান মিশনারী হ্যান্ডস এজেড একটি নৌকা নিয়ে গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছেছিলেন। এই সময় নরওয়ে এবং ডেনমার্ক উভয় দেশই একই রাজতন্ত্রের অধীনে ছিল। অনেকেই হয়তো জানেন না, 1914 সাল নাগাদ ডেনমার্ক এবং নরয়ের রাজতন্ত্র আলাদা হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের অধীনে নিয়ে নেয় ডেনমার্ক। পরবর্তীতে 1916 সাল নাগাদ গ্রিনল্যান্ডের উপর ডেনমার্কের ডানপন্থীদের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নিশ্চিত করে আমেরিকা। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্কের ওয়েস্ট ইন্ডিজ কেনার সুযোগ পেয়েছিল।